ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের মধ্যে ওয়ানডেতে সমীহ করা দল হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা হয়। এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে খেলা শুরুর পর থেকেই দিনে দিনে উন্নতি করেছে দল। তবে সেটা কখনোই প্রত্যাশিত মানের ছিল না।
বিশ্বকাপে প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি কম
বিশ্বকাপে ভরাডুবি ছাড়াও পাওয়া বলতে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ। বিশ্বকাপের সেরা আটে থাকতে তাতেও ছিল নানা রকমের চ্যালেঞ্জ! আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শুরু করা সাকিবের দল খেই হারায় বিশ্বকাপে একটার পর একটা ম্যাচে। টানা ছয় হারের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাওয়া জয়ে একেবারে শেষ দল হিসেবে সেরা আটে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার টিকিট মেলে।
বিশ্বকাপে জয়-পরাজয়ের হিসাব
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সাকিব ও মিরাজের বোলিং নৈপুণ্যে মাত্র ১৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় আফগানরা। জবাবে মিরাজ ও শান্তর হাফ সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটের সহজ জয় আসে। এরপরই শুরু হয় ব্যর্থতার মিছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৭ রানে হারা শুরু হয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেটের হার যেন কষ্ট বাড়াতে থাকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও হারতে হয় ১৪৯ রানে। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮৭ রানের বড় হার। এরপর পাকিস্তানের কাছে হার মানতে হয় ৭ উইকেটে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সমীকরণের ম্যাচে জয় আসে ৩ উইকেটে। শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় পরাজয় দিয়ে আসর শেষ করে। দুটি জয় দিয়ে ইজ্জত বাঁচাতে পারলেও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
তামিমকে নিয়ে একের পর এক নাটক
একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। পরবর্তীকালে বিদায় প্রসঙ্গে কোচ, বিসিবি কর্মকর্তা ও সাকিব আল হাসানের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলে হঠাত্ করেই দেন অবসরের ঘোষণা।
পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর ডাকে গণভবনে গিয়ে সরে আসেন নিজের সিদ্ধান্ত থেকে। এরপর তাকে বিশ্রামে পাঠানো হয় বিশ্বকাপে পুরো ফিট হয়ে ফেরার জন্য। তামিমকে কোচ-অধিনায়ক মিলে কোন ম্যাচ খেলবেন, কোনটি খেলতে পারবেন না সেটি নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বাদই দেওয়া হয়। এরপর বছরের শেষভাগে ২০২৪ সালের জন্য যাতে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তাকে না রাখা হয় সেটি অনুরোধ জানিয়ে আলোচনায় আসেন তামিম। নাটকের শেষ কোথায় সেটা আপাতত বলা যাচ্ছে না।
সাকিব ম্যাথুসকে টাইমড আউট করে বিতর্কে
২০২৩ সালে বিশ্ব ক্রিকেটে অদ্ভুত এবং উল্লেখযোগ্য বিতর্ক শ্রীলঙ্কান পেস বোলার অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের টাইমড আউট হওয়া। ভারত বিশ্বকাপের ৩৮তম ম্যাচে বিরল এ ঘটনার সৃষ্টি হয়, যাতে কোনো বল না খেলেই বাইশ গজ ছাড়তে হয় ম্যাথুসকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যা ছিল প্রথম কোনো ঘটনা।
ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্বে অসহায় বিসিবি!
নিজের বিয়েতে ক্রিকেটারদের মধ্যে শুধু তামিমকেই দাওয়াত করেছিলেন সাকিব। হরিহর আত্মা থেকে তারা এখন একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু কীভাবে তাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক হলো সেটা আজও অজনাই রয়ে গেছে।
সাকিব-তামিম সংকটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় বয়ে যায়। বিসিবির মণ্ডুপাত করতেও ছাড়েননি সমর্থকরা। অনেকেরই মত, ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্বে অনেকটা অসহায় ভূমিকায় বিসিবি।
আশার আলো নারী ও যুবারা
বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেটের ব্যর্থতায় মোড়ানোর বছরে নারী ও যুবারা আশার বাগানে নতুন ফুল ফুটিয়েছেন। নিগার সুলতানা জ্যোতিরা ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সমতা, পাকিস্তানকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সিরিজ হারানো, এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জয়সহ অনেক ঘটনা ছিল বছর জুড়ে।
অনূর্ধ্ব-১৯ দল প্রথম বারের মতো এশিয়া কাপ জিতেছে। ফাইনালে আরব আমিরাতকে তাদের মাটিতে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ২২ ম্যাচ খেলে ১১টিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে। ২০২০ সালে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতলেও এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। আর দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে হারানোর পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি থেকে প্রথম বারের মতো ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল।
জয়ের পাল্লা ছিল ভারি
তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৪৫টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে জয়ের পাল্লাটাই বেশি ভারী। ২৪ ম্যাচ জয়ের বিপরীতে সাকিব-তাসকিনরা হেরেছে ২১ ম্যাচে। ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ, আফগানদের ধসিয়ে দেওয়া এবং সবশেষ নিউজিল্যান্ডকে ঘরের মাটিতে টেস্টে হারানোর অর্জনও আছে। সব মিলিয়ে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে বেশ কিছু জয় নতুন বছরের জন্য অনুপ্রেরণা।

