রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাতে নৈতিকভাবে কর্মী প্রেরণ করতে পারে এজন্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। অচিরেই রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সিআইপি সম্মাননা প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে তাদের মান অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করা জরুরী। যাতে যোগ্য এজেন্সিগুলোকে পুরস্কৃত করা সহজ হয়।
রোববার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস-২০২৩ উপলক্ষে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এ কথা বলেন।
ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, ভিসা ট্রেডিং বন্ধসহ দক্ষ কর্মী প্রেরণ করতে পারলে অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিসহ অন্যান্য সহযোগী সরকারি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে আমাদের দেশের একটা শিক্ষিত অংশ জেনে বুঝে অবৈধভাবে ইউরোপ যেতে চায়।
তারা যেন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বিদেশ না যায় সেজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি উল্লেখ করে সচিব বলেন, আমাদের কিছু কিছু কর্মী বৈধভাবে রোমানিয়া ও পোল্যান্ড গিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করে অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক। সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার বিবেচনায় বাংলাদেশে কয়েকটি দেশের দূতাবাস চালু করার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। দেশের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্পৃক্তকরণে সরকার নীতি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সীজ (বায়রা) সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার ও বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হেলভেটাস বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল বাশার। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
“কেবল আইন দিয়ে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়” শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে সরকারি বাঙলা কলেজের বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তার হওয়ার গৌরব অর্জন করে প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির বিতার্কিক প্রিয়া দেব।
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লি. (বোয়েসেল) ও সিম্স প্রকল্প, হেলভেটাস বাংলাদেশ। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের দেশের সেরা ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলকে ট্রফি, সনদপত্র ও পুরস্কার হিসেবে যথাক্রমে ১ লক্ষ ও ৭৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তাকে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সেলিম মালিক, ডক্টর মুহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী ও সাংবাদিক আরাফাত আরা।
