মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বেড়েছে সাড়ে ২২ হাজার টাকা

বছরজুড়ে সোনা নিয়ে লাফালাফি

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৪, ১৮:৪৬

পুরাতন বছর বিদায় নেওয়ার সঙ্গে নতুন বছরের শুরু। ২০২৩ সাল জুড়ে সোনার বাজার ছিল চরম অস্থিতিশীল। দফায় দফায় দাম বেড়েছে সোনার, সে তুলনায় কমেছে সামান্য। এ বছরই দেশে প্রথমবারের মতো সোনার দাম ভরিপ্রতি লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। দাম বাড়ায় এ বছর নতুন নতুন রেকর্ড হয়েছে, বছর শেষে দেশের ইতিহাসে সোনার এখন সর্বোচ্চ দাম। গড় হিসেবে এই বছর সোনার দাম বেড়েছে ২২ হাজার ৬২৮ টাকা। 

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৯ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস)। এর মধ্যে দাম কমানো হয়েছে ১১ বার, বাড়ানো হয়েছে ১৮ বার। বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ভালো মানের, অর্থাৎ হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ৮৮ হাজার ৪১৩ টাকা। কয়েক দফা দাম বাড়ার পর ২১ জুলাই দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো প্রতি ভরি সোনার দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আর সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর সোনার দাম বেড়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৪১ টাকায় পৌঁছায়, যা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই বছর সোনার দাম বেড়েছে ২২ হাজার ৬২৮ টাকা।  

এদিকে সোনার দামের পাশাপাশি দীর্ঘদিন এক দরে স্থির থাকার পর চলতি মাসে রুপার দামে রেকর্ড করেছে। দেশের ইতিহাসে রূপার দামও প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ২১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪১ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ৬ হাজার ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ৬৮ টাকা বাড়িয়ে ৯০ হাজার ৮৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ১৬৬ টাকা বাড়িয়ে ৭৫ হাজার ৬৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোনার দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে যারা অলংকার কেনার কথা ভাবছিলেন, তাদের দুশ্চিন্তা কেবলই বাড়ছে। সোনার অলংকার দিন দিন তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, সোনার গয়না বিক্রি কমেছে। তবে ব্যাংকসহ যারা সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করে, তাদের কাছে সোনার চাহিদা বেড়েছে। এ ছাড়া দাম বেড়ে যাওয়ায় পুরোনো সোনা বা অলংকারের সম্পদমূল্যও বেড়েছে। এ কারণে অনেকে বেশি মুনাফার আশায় পুরোনো গয়না বিক্রি করছেন।

জানা গেছে, দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ার মূল কারণ, গত এক বছরে বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম বেড়েছে। ২০২০ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স (৩১ দশমিক ১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম (স্পট প্রাইজ) ২ হাজার ৭০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এত দিন ধরে সেটিই ছিল ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম। কিন্তু ১ ডিসেম্বর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় ওঠে সোনার দাম, আউন্সপ্রতি সোনা তখন বিক্রি হয় ২ হাজার ৭২ ডলারে।
সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বর সোনার দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৭৫ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) হিসাবে, এটিই এখন পর্যন্ত ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ স্পট প্রাইজ।

সোনার মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অন্যতম কারণ। গত বছর শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব এ বছরেও কমবেশি ছিল। এর সঙ্গে বছরের শেষ দিক যুক্ত হয়েছে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ। ডব্লিউজিসি বলেছে, ২০২৩ সালে বিশ্ববাজারে সোনার চাহিদা বাড়ার পেছনে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের পতন ও হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ। ডব্লিউজিসির হিসাবে, ভূরাজনৈতিক ঘটনাগুলোর কারণে এ বছর সোনার দাম ৩ থেকে ৬ শতাংশ বেড়েছে। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এবং বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ডিস্ট্রিক্ট মনিটরিং চেয়ারম্যান ডা. দিলীপ কুমার রায় বাংলানিউজকে বলেন, বিশ্ব বাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের জুয়েলারি শিল্প আজকে সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি, ভূরাজনীতি, ডলারের দাম বাড়া, আমদানিতে ভ্যাট, ট্যাক্স বেশি এবং ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ, খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলন কমার পাশাপাশি যারা ধনকুবের তারা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ করছে। একই সঙ্গে ধনী রাষ্ট্রগুলো সঞ্চয় হিসেবে সোনা মজুদ করছে। যার কারণে দিন দিন সোনার দাম বাড়ছে।

ইত্তেফাক/এনএ