দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা পত্রিকার সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেছেন, নৌকাকে বিজয়ী করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একটি চক্র এলাকার মানুষকে লোভ দেখিয়ে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। যারা লুটপাট করে দেশের ক্ষতি করছে তাদের বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) বিকালে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমরাঝুড়ি ইউনিয়নের গন্ধর্ব জানকী নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ও সন্ধ্যায় বড় বেকুটিয়া দুর্গা মন্দির সংলগ্ন উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তাসমিমা হোসেন বলেন, নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে সেখানে আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না। বহিরাগত লোকজন এলাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মানুষকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষ চায় নৌকায় ভোট দিতে, আমরা চাই বঙ্গবন্ধুর হাতকে শক্তিশালী করতে। তাহলে কেন নৌকার লোকজনকে মারধর করা হচ্ছে, ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মেয়েদের মারধর করে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়নের ফলে ভান্ডারিয়া-কাউখালীর এলাকার উন্নয়নের সুফল এলাকাবাসী ভোগ করছে। এবার নতুন করে নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) যুক্ত হয়েছে। জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিগত ৩৮ বছর ধরে কাউখালীসহ পিরোজপুর-২ আসনে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। দীর্ঘ সময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ এলাকার উন্নয়নে নিরলস কাজ করে গেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র ভোট কেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ লোপ পেয়েছে। মানুষের মধ্যে বহুরূপী ‘কেউ পুত্র, কেউ ভাই সেজে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এমনকি পিঠে ছুটি মারতেও কেউ সময় নেয় না।
সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ভোটের প্রায় শেষ পর্যায়ে শেষে একটি অশুভ চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র সরলতাকে পুঁজি করে ঐ অশুভ চক্র এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করছে। তাই এলাকার মানুষ জানে আসল কে নকল কে। তাই বিবেকের সঙ্গে চিন্তা করবেন। এবার প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে নৌকা প্রতীক দিয়ে নির্বাচনে পাঠিয়েছেন বিশেষ কারণে। তাই বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে অতীতের মত এবারও পিরোজপুর-২ আসনে বিজয়ী করতে হবে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবী বিলাস চন্দ্র ঘরামী। বক্তৃতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. একেএম আব্দুস শহিদ, সহসভাপতি সুনীল কুন্ডু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদী রেবেকা শাহিন চৈতি, উপজেলা জাতীয় পার্টি জেপি’র সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, সমাজ সেবক আব্দুল লতিফ খসরু, জেপি নেতা নেপাল চন্দ্র দে, উপজেলা মঞ্জু সেনার আহবায়ক রাজু আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা সমীরণ মন্ডল, নৃপেণ দাস, সঞ্জিব সিকদার, শুভংকর চক্রবর্তী, জেপি নেতা উজ্জল হালদার, শিক্ষক শেখর মজুমদার, অমল কৃষ্ণ তালুকদার, কানন বালা সুতার, অনিমেষ মন্ডল প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপি’র সহসভাপতি বলরাম কুন্ডু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সারধারণ সম্পাদক শাহ আলম সেন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, জেপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান, শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সোহাগ খান, মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীমা আকতার, ছাত্র সমাজের সভাপতি শামিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জয়দেব সমাদ্দার প্রমুখ।
সন্ধ্যায় চিড়াপাড়া পারসাতুরিয়া বড় বেকুটিয়া দুর্গা মন্দির সংলগ্ন উঠান বৈঠকে চিড়াপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন জেপি’র সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট একেএম আব্দুস শহীদ, জেপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমাউন কবীর তালুকদার রাজু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদী রেবেকা শহীন চৈত্রী, সহ-সভাপতি সুনিল কুন্ডু, পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি এ্যাড. শেখর চন্দ্র দে, ইউনিয়ন জেপির সভাপতি খান মো. বাচ্চু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট শেখর চন্দ্র দে, ইউনিয়ন জেপি’র সভাপতি খান মো. বাচ্চু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব উদ্দিন পাভেল, যুব সংহতির উপজেলা শাখার সভাপতি নুরুজ্জামান মনু, সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম কাইয়ুম শেখ। উপস্থিত ছিলেন মহিলা পার্টির সভানেত্রী অধ্যক্ষ আফরোজা আক্তার, আওয়ামী লীগ নেত্রী মল্লিকা বিশ^াস, যুবলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ রুবেল, সালাউদ্দিন রাসেল।
দু’টি উঠান বৈঠকে তার সফর সঙ্গী হিসেবে উপজেলা জেপি’র মহিলা পার্টির সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য পারভীন রহমান, পৌর মহিলা পার্টির সভাপতি শিরিন খান, সাধারণ সম্পাদক ঝুমুর আক্তার।

