হুসাইন আলমের স্বপ্নের গল্প

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৯, ২০:২১

হুসাইন আলম। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বেড়ে উঠে, নানা কষ্ট সহ্য করেও তিনি উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন যুক্তরাজ্য থেকে। প্রভাষক হিসাবে চাকরি করছেন পোলান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি বলেন, মাস্টার্সের স্টুডেন্ট থাকাকালীন সময়ে আমি ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট ইউনিয়নের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট  অফিসার ছিলাম (ইলেক্টেড)। আমি এখন ইউনিভার্সিটি রোকলো পোল্যান্ড এ পিএইচডি এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি করছি। সাড়ে ৪০০ বছরের পুরাতন এবং ৯ জন নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত ইউনিভার্সিটিতে প্রথম যেদিন ক্লাস নিতে গিয়েছিলাম। সেদিন চোখে জল এসে ছিল এই ভেবে গ্রামের ছেলে আজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার।

তিনি বলেন, আমি মাকে ফোন দিয়ে আনন্দে কেঁদে ছিলাম যেদিন সাড়ে ৪০০ বছরের  ইউনিভার্সিটির রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন রেকর্ড গড়েছিলাম মাত্র ৪ মাস ১৫ দিনে পিএইচডি প্রসিজার ওপেন করে।

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর থানার ঘুল্লিয়া গ্রামে তার জন্ম। ছোটোবেলায় বেড়ে ওঠা এই গ্রামেই। যেহেতু গ্রামে কোনো হাই স্কুল ছিল না তাই অনেকটা অনিচ্ছার সত্ত্বেও ভর্তি হতে হয়েছিল ঘুল্লিয়া দাখিল মাদ্রাসাতে।

তিনি জানান, আমার দুই মা আর আমি ছোটো মায়ের সন্তান। সন্ধ্যাবেলা আশপাশের লোকদের চিত্কার-চেঁচামেচি ও গান-বাজনার কারণে আমরা লেখাপড়া করতে পারতাম না। যার ফলে কষ্ট হলেও আমাদেরকে সন্ধ্যার সময় ঘুমিয়ে যেতে হতো। মা জেগে থাকত এবং রাত বারোটার পরে ঘুম থেকে তুলে দিত পড়ালেখার জন্য। আমি আর আমার ছোটো বোন নাজমা সারারাত জেগে লেখাপড়া করতাম। আমি আর আমার ছোটো বোন একই ক্লাসে পড়তাম। অভাবের কারণে দুই সেট বই না কিনে এক সেট বই কিনে দুইজন এক সঙ্গে পড়তাম। মাঝে মাঝে হাতে লিখে নিয়ে নোট করে পড়তাম। সেই ক্লাস ফাইভ থেকে টিউশনি করা শুরু করেছিলাম আর লন্ডন যাওয়ার আগ পর্যন্ত করেছিলাম। আমি বাংলাদেশ হতে দাখিল এবং আলিম পাশ করেছিলাম এবং অনার্স করেছি ইউনিভার্সিটি অফ সান্ডারল্যান্ড লন্ডন থেকে মাস্টার্স শেষ করি যুক্তরাজ্যের ক্যান্টারবুড়ি ক্রিস্ট চার্জ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করি ইউনিভার্সিটি অফ রোকলো পোল্যান্ড থেকে।

দিনে চাকরি করে বাসায় সারারাত জেগে লেখাপড়া করতাম। শুক্র, শনি, রবিবার—এই তিন দিন ঘুম কি জিনিস আমার তা জানা ছিল না। একটাই লক্ষ্য ছিল যতই কষ্ট হোক না কেন টাকা রোজগার করে আমাকে লেখাপড়া শেষ করতেই হবে। তাই হাজার কষ্টকে আমি আশার বাণী হিসেবেই নিয়েছিলাম।

পোল্যান্ডের ইতিহাসে আমি একমাত্র বিদেশি, যে পলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাইন্টিফিক মেম্বার। আমি বিশ্বাস করি—কোনো স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে কঠিন পরিশ্রম ও সদিচ্ছার বিকল্প নাই।