বিএনপির ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:০৬

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে আজ শনিবার সকাল ছয়টা থেকে সোমবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত দেশব্যাপী বিএনপির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) এক জরুরি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হরতালের ডাক দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এদিকে বিএনপির কর্মসূচির সমর্থনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত সমমনা দলগুলোও হরতাল পালন করছে।

ওইদন রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘একতরফা নির্বাচনে সরকার নিজেরা পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ঘটিয়ে বিএনপি ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র মঞ্চ ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। এছাড়া, সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী প্রতিনিয়ত হামলা করছে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে এসব হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

হরতালের আগমুহূর্তে নাশকতা
হরতালের ঠিক আগমুহূর্তে রাজধানীসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে নাশকতা। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে এখন পর্যন্ত নারী-শিশুসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়া রাতে রাজধানীর ডেমরায় যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যায় মগবাজারে নির্বাচন বিরোধী মশাল মিছিলে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এ এফ রহমান হলের উল্টো দিকের রাস্তায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

বিবৃতি দিয়েছেন রিজভী
এদিকে বেনাপোল থেকে ঢাকার দিকে ছেড়ে আসা বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বিবৃতিতে রিজভী বলেন, ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগিয়ে হতাহতের ঘটনা নিঃসন্দেহে নাশকতামূলক কাজ ও মানবতার পরিপন্থি এক হিংস্র নিষ্ঠুরতা। আমি এই ঘটনায় ধিক্কার ও তীব্র নিন্দা জানাই। গত ‘১৪ ও ‘১৫ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন সেই মুহূর্তে অগ্নিসন্ত্রাসের নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর মদদপুষ্ট দুষ্কৃতিকারীরা জনদৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সব স্বৈরাচারই ভিন্নমতকে দমন করার জন্য সন্ত্রাস ও নাশকতার পন্থা অবলম্বন করে থাকে। দেশে-দেশে স্বৈরশাহী মানবতাবোধশূন্য ও অনুভূতিহীন হয়ে থাকে। আজকে দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগিয়ে যে ধ্বংস ও বিপদের পথ উন্মোচন করা হলো তাতে দেশ ও জাতিকে এক গভীর খাদের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা এই ঘটনায় জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করছি।’

রিজভী বলেন, ‘আমি বিএনপির পক্ষ থেকে অবিলম্বে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগিয়ে জীবনহানি ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে অনেককে মারাত্মক জখম করার কাপুরুষোচিত ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি। নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।’

ইত্তেফাক/এইচএ