আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা মারা গেছেন প্রায় প্রায় তিন বছরেরও বেশ হলো। কিন্তু তার তার মৃত্যুর ২৭ বছর আগে চালু হওয়া এক মামলার ফলাফল আসতে সময় লেগেছে একে একে ৩০ বছর। ইতালির আদালতে চলা সেই মামলায় অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হলেন কিংবদন্তি এই ফুটবলার।
কর ফাঁকির অভিযোগ করা মামলা শেষ পর্যন্ত আদালত জানিয়েছে, ম্যারাডোনা নির্দোষ ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবনে নেপলসে থাকাকালে কখনোই কর ফাঁকি দেননি তিনি। রায়ের পর ম্যারাডোনার আইনজীবী অ্যাঞ্জেলো পিসানি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এটা শেষ হলো। আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি, ম্যারাডোনা কখনোই কর ফাঁকি দেননি।’
ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত নাপোলিতে থাকা অবস্থায় তিনি লিখটেনস্টাইনের প্রক্সি কোম্পানি ব্যবহার করে ক্লাবের কাছ থেকে পাওয়া ইমেজ স্বত্বের কর ফাঁকি দিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে এই মামলা করা হয়।
ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি অভিযোগে তদন্ত শুরু হয় ১৯৯০ সালে। মোট ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো কর ফাঁকির অভিযোগও পরবর্তীকালে সামনে আনা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় ইতালি সফরকালে ম্যারাডোনার বেশ কিছু সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা হয়।
যদিও শেষ পর্যন্ত এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ২০২০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ম্যারাডোনা। মৃত্যুর পরও অবশ্য থামেনি আইনি লড়াই। তবে শেষ পর্যন্ত জয় হলো কিংবদন্তি এই ফুটবলারের। আইনজীবী পিসানি বলেছেন, ‘চূড়ান্ত রায় ভক্ত, ফুটবলের মূল্যবোধ ও ম্যারাডোনার স্মৃতির প্রতি ন্যায়বিচার করেছে। ৩০ বছর ধরে যে নিপীড়ন তাঁর ওপর চলছিল, তারও সমাপ্তি ঘটল। পাশাপাশি এখন তার উত্তরাধিকারীদের ক্ষতিপূরণ দাবি করার আইনগত অধিকার রয়েছে। আমি আশা করি, তারাই এ সুযোগ গ্রহণ করবে। তাদের বাবার স্মৃতির উদ্দেশে তারা এটি করবে।’

