সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসনে ভোট উৎসবের অপেক্ষায় ভোটাররা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:২০

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৮৬ সাল থেকে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত তিনি এ আসন থেকে সাত বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অষ্টম বারের মতো নির্বাচিত হতে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ। এ কারণে জেলাটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ আবারও সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে উন্মুখ হয়ে আছেন ভোটাররা। নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরাজিত হয়ে জামানত হারিয়েছেন প্রতিবার। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসনে ভোট উৎসবের জন্য ভোটাররা অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন। আর এই উৎসবের সূচনা হয় তপসিল ঘোষণার দিন থেক

নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার পর টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। পরে  অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। এরপর ২৯ নভেম্বর উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মাহবুবুল আলমের কাছে প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর চাচা শেখ কবির হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধি শহীদ উল্লা খন্দকার, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শেখ শাহানা ইয়াসমিন শম্পা, শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও সাবেক এমপি নাজমা আক্তার, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈমসহ কেন্দ্রীয়, গোপালগঞ্জ জেলা, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতীক বরাদ্দের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকার দুটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নে আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচনি অফিসের উদ্বোধন করা হয়।

এরপর থেকে প্রতিদিনই টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া উপজেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শুরু করেন জনসংযোগ। তারা ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা বলে ভোট চেয়েছেন। অংশ নিয়েছেন মিছিলে। করা হয়েছে পথসভা ও উঠান বৈঠক। প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকায় ভোট চেয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান তুলে ধরা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হাজার হাজার মানুষ উপভোগ করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ ডিসেম্বর নিজ নির্বাচনি এলাকার টুঙ্গিপাড়া সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ ও কোটালীপাড়া শেখ লুত্ফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেন। জনসভা দুটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, উপজেলাটি ছিল জলমগ্ন, দুর্গম, অনুন্নত ও অবহেলিত। মানুষ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাপক উন্নয়নে কোটালীপাড়া বদলে গেছে। মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তাই এখানকার মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর এখানে নির্বাচনি উৎসব শুরু হয়। প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন ভোটাররা ভোট উৎসবের জন্য অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন। ৭ জানুয়ারির মাহেন্দ্রক্ষণে তারা ব্যালটের মাধ্যমে নৌকার বক্স ভরে দেবেন এমন প্রত্যাশা আমাদের।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধি ও প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট  মো. শহীদ উল্লা খোন্দকার বলেন, ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন ভোটাররা ভোট উৎসবে মাতবেন। সেভাবেই আমরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি।  

কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের পীড়ারবাড়ী গ্রামের ভোটার প্রহল্লাদ বিশ্বাস (৬০) বলেন, না চাইতেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের সব দিয়েছেন। তাই আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। ভোটের দিন সকাল সকাল লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেব। এদিন আমরা ভোট উৎসব করব। কারণ, দিনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের।

ইত্তেফাক/এমএএম