দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করতে কারিগরি শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৯, ২০:২৬

আগামী দিনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাই হবে শিক্ষার মূলধারা। কারণ আমরা আমাদের দেশকে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত করতে চাই। তাই সারা দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করতে কারিগরি ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার, সবাইকে আত্মনির্ভরশীল করতে নানা কর্মমুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করার জন্য তরুণ ও তরুণীরা প্রযুক্তিগত ও বৃিত্তমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারিগরি শিক্ষা দক্ষ মানব সম্পদ নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং মজবুত ও টেকসই অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন এদেশের বিশাল জনশক্তির কর্মসংস্থানে সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃিদ্ধর জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা ও কর্মক্ষেত্রে উত্পাদন বৃিদ্ধর মাধ্যমে উন্নত জীবনযাপনের সহায়তা করা এবং দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করার  লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের পিছনে রয়েছে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনশক্তি; যেখানে কারিগরি শিক্ষার হার ৬০-৮০%।

বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছে। এই বিশাল কর্মক্ষম জনসংখ্যা দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক রেমিটেন্স অর্জনের জন্য দক্ষ ব্যক্তিদের ভূমিকাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজন হলেও সত্য যে, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে, বেশিরভাগ লোক বেকার বা কম বেতনভোগী হিসাবে কাজ করে এবং অমানবিক অবস্থায় কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ— বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকরা তাদের ভারতীয় প্রতিপক্ষের তুলনায় দুইগুণ কম এবং শ্রীলংকার সহকর্মীদরে চেয়ে তিনগুণ কম উপার্জন করে, কারণ বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই সেখানে যায়। তাদের উপযুক্ত ও নিশ্চিত কাজের জন্য ন্যুনতম দক্ষতা থাকে না। যুক্তিসঙ্গতভাবে, তাদের বেতন কম এবং তারা শোষিত হয়; এমনকি কখনও কখনও তারা বিদেশে বছরের পর বছর জেলখানায় পরে থাকে। কিন্তু যদি তারা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন করে বিদেশ গমন করতো তাহলে উপার্জন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তাদের জন্য বিপরীত চিত্র হতো। তাই এসএসসি’র পরে একজন শিক্ষার্থী স্বনির্ভর পেশা গড়তে গ্রহণ করতে পারে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স তথা কারিগরি শিক্ষা। কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের পর শিক্ষার্থীকে আর চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। সে নিজেই অর্জিত শিক্ষার সাথে মিল রেখে পছন্দের পেশা গ্রহণ করতে পারে বা স্বাধীনভাবে স্ব-কর্মসংস্থান করতে পারে। তাই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বেকারত্ব দূর করে এবং অর্থনৈতিকভাবে দেশের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুিমকা পালন করে।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষার এই অপার সম্ভাবনার দিকে লক্ষ্য রেখে ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি, চট্টগ্রাম ২০০৬-০৭ সেশন থেকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করে আসছে। তাদের মধ্যে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, সিভিল এবং আর্কিটেকচার প্রোগ্রামগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ইতোমধ্যে চাকরির ক্ষেত্রে আশাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলো তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক ও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের প্রশিক্ষনমূলক, যা উচ্চ শিক্ষিত ও বাস্তব জ্ঞানে সুপ্রশিক্ষিত শিক্ষক মন্ডলি ও সুদক্ষ ল্যাব প্রশিক্ষকগণ দ্বারা পরিচালিত। বিস্তারিত জানতে রয়েছে ০১৭১৩-৪৯৩২৫৭ নম্বর। বর্তমানে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং - কম্পিউটার,  ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, আর্কিটেকচার এবং সিভিল প্রোগ্রামে নূন্যতম জিপিএ ২.০০ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হতে পারবে। এছাড়া এইস এস সি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চতর গনিতসহ ন্যূনতম জিপিএ ২.০০ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীরা সরাসরি তৃতীয় সেমিস্টারে ভর্তি হতে পারবে।