যেখানে অর্থের অভাবে থেমে যাচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম, সেখানে পৌঁছে যাচ্ছে মায়া ফান্ডসের সাহায্যের হাত। উদ্দেশ্য, অর্থের অভাবে যেন না ভেঙে যায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্নগুলো। দরিদ্র নারীদের শিক্ষায় সহায়তা প্রদানের জন্য এ দেশে কিছুসংখ্যক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে ভিন্নধর্মী মায়া ফান্ডস। কেবল দুস্থ নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করেই ক্ষান্ত নয় মায়া। পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে মায়া ফান্ডস নিশ্চিত করছে বাধাহীন শিক্ষা। যে কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পরিবার থেকে পরিপূর্ণ সমর্থন পাচ্ছে শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী মেয়েটি।
নারীর শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র মেয়েটির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে মায়া। সম্প্রতি এক বছর পরিপূর্ণ করেছে আয়হীন নারীশিক্ষায় কর্মরত মায়া ফান্ডস। এই এক বছরেও মায়া ফান্ডসের অর্জন কম নয়। পূর্বের চেয়ে অধিক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিতে পেরেছে মায়া। সেই সঙ্গে রয়েছে সুদূরপ্রসারী সব পরিকল্পনা। মায়ার কিছু অভিনব উদ্যোগের একটি হলো সম্প্রতি তাদের একজন শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ প্রদান করা। গত ঈদে শিক্ষার্থীদের নতুন পোশাক দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারকে প্রদান করা হয় ঈদের উপহার। এছাড়া বিভিন্ন গ্রামে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালা চালু করেছে সংস্থাটি, যেখানে নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে শেখানো হয় অতিপ্রয়োজনীয় বয়ঃসন্ধিকালীন সচেতনতা।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মায়া ফান্ডসের প্রতিষ্ঠাতা ফাতেমা জোহারা বলেন, ‘কর্মশালাসমূহ নিয়ে বেশ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি নতুন বছরে মায়া বেশ কিছু কর্মশালা এবং নতুন প্রোজেক্ট বাস্তবায়ন করতে পারবে। উচ্চশিক্ষার জন্য আমাদের সব শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মায়া ফান্ডসের আর্থিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন ফান্ডরেইস ডিনারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশের মানুষের সঙ্গে সহায়তায় অংশগ্রহণ করছে ভিনদেশিরাও।’ নারীশিক্ষায় কর্মরত স্বেচ্ছাসেবক আয়হীন সংস্থাটির কারণে হয়তো অকালেই কিছু স্বপ্ন মরে যায়নি। কিছুটা হলেও দেশে শিক্ষার অভাব মোচন হয়েছে। একটি শিক্ষিত জাতি ও শিক্ষিত দেশ গড়ার পেছনে অবিরাম কাজ করে চলেছে মায়া ফান্ডস।
