নাচেন ভালো সুন্দরী যে বাঁধেন ভালো চুল, হেলিয়া দুলিয়া পরে নাগ কেশরের ফুল। গানের কথার মতো মেয়ে ফাহমিদা বিনতে আজাদ। নাচ, অভিনয়, ছবি আঁকা, রান্না সবকিছুতেই দখল আছে তার। বাবা সরকারি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ আর মা গৃহিণী জোসনা ইয়াসমিনের পরিবারের বড়ো সন্তান ফাহমিদা নৃত্য-শিল্পকলার সবকিছুতেই পটু। থাকেন রাজধানীর ডেমরা এলাকায়। পড়ছেন উচ্চ মাধ্যমিকে। এর মধ্যেই জেলা ও জাতীয় বেশ কয়েকটি প্রতিযাগিতায় পেয়েছেন সেরার স্বীকৃতি। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়ো ফাহমিদার স্কুল কলেজ দুইটাই আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল।
২০১৭ সালে এই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন ফাহমিদা বিনতে আজাদ। নাচের হাতেখড়ি পান সুর ছন্দ ললিতকলা একাডেমি সুলতান মাহমুদের কাছ থেকে। তারপর মার্কস অলরাউন্ডারে থাকাকালীন নৃত্যগুরু ইভান শাহরিয়ার সোহাগের হাত ধরে নাচের জগতে পথচলা শুরু। এখন ফাহমিদা নৃত্যকথার একজন নিয়মিত সদস্য। সেখানে স্বনামধন্য লিখন রায় আর নাদিয়া আহমেদের কাছে শিখছেন ক্লাসিক্যালসহ নাচের নানা মুদ্রা। নাচের পাশাপাশি মডেলিং, আবৃত্তি আর অভিনয়েও আগ্রহ বেশ ফাহমিদার। বলতে পারেন এসবের প্রতি প্রেমও আছে। ফ্যাশন হউজ বিশ্বরঙ এর হাত ধরে মডেলিংয়ে যাত্রা শুরু তার। ফাহমিদা বলেন, ছোটবেলায় প্রচুর কম্পিটিশন করেছি আর অনেক পুরস্কার জিতেছি। আমার যখন ৫ বছর বয়স তখন নতুন কুঁড়িতে সাধারণ নৃত্য বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করি।
২০১৪ সালে জাতীয় কম্পিটিশনে জেলা পর্যায়ে নাচ আবৃত্তি অভিনয় তিনটাতেই প্রথম স্থান অধিকার করি। তবে নিজের কাজে বাবা খুব একটা সাপোর্ট করেন না বলে আক্ষেপ ফাহমিদার। তবে সামনে না বললেও বাবা আবুল কালাম আজাদের শুভকামনা সব সময় তার জন্য। নানু আর আম্মু পাশে থাকায় মূলত এতদূর আসতে পেরেছেন তিনি। ফাহমিদা বলেন, আর যাদের কথা না বললেই নয় তারা হলো আমার চার বেস্ট ফ্রেন্ড। ওরাও আমার বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমার পাশে ছিল আমাকে সাপোর্ট করেছে। বলেন, একদিন শো শেষ করে বাসায় ফিরেছিলাম খুব রাতে সেদিন বাবা ঘরে ঢুকতে দেয়নি আমাকে আর আমার আম্মুকে। সিঁড়িতে বসেই রাত কেটে গেছে দুজনের। আমি কোনোদিন অনেক বড় তারকা হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। আমার ভালো লাগে কাজ করতে আর তাই ভালোবাসা থেকেই কাজ করে যেতে চাই সব সময়। অবসর সময়ে ছবি আঁকা, গান গাওয়া আর রান্না করে সময় কাটে ফাহমিদার। বড়ো হয়ে নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে গড়ে তুলতে চান একজন চিকিত্সক হিসেবেও। বানাতে চান বৃদ্ধাশ্রমও। নাচে অবশ্যই সাদিয়া ইসলামকে আইডল হিসেবে মানেন ফাহমিদা বিনতে আজাদ। সব সময় সততা ধরে রেখে নিজের পথে চলতে চান, নিজের মতো করে বিখ্যাত হতে চান ফাহমিদা। করতে চান মায়ের স্বপ্নপূরণ। আদর্শবান মায়ের আদর্শ মেয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে চান নিজেকে।
