কেউ লিখল, ‘তিন দিন ধরে সড়কে ময়লা আর্বজনা জমে আছে। সিটি করপোরেশনের লোকরা আর্বজনা পরিষ্কার করছে না। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি।’ ‘অমুক এলাকায় দুই দিন ধরে বিদ্যুত্ নেই।’ কেউবা এটা লিখে পোস্ট দিল। এভাবে নগরবাসী সমস্যার কথা লেখেন। পোস্ট করেন বরিশাল সমস্যা ও সম্ভাবনা গ্রুপে। এটি একটি ফেসবুক গ্রুপ। এই গ্রুপটির সঙ্গে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জড়িত। তাঁরা পোস্টগুলো পড়েন। কখনো কখনো তাদের ট্যাগ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যেটা ব্যক্তিগত যোগাযোগে সম্ভব ছিল না। সেটা এখানে সম্ভব হয়। জনমত গঠন হয়। কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা না নিয়ে কি উপায় আছে? বরিশাল জেল খালের কথাই ধরা যাক। বছরের পর বছর ময়লা আর্বজনা ফেলা হতো। প্রায় মৃতপ্রায় খাল। খালের দুরবস্থার কথা রুমকি নামের একজন লিখলেন। মুহূর্তে হাজার হাজার লাইক, কমেন্ট পড়ল। স্বেচ্ছাসেবকরা এগিয়ে এলেন। নেতৃত্বে থাকলেন তত্কালীন জেলা প্রশাসক গাজী সাইফ জামান। দুষ্ট লোকরা সব পালাল। দখলমুক্ত হলো জেল খাল। এ রকম অসংখ্য সমস্যা, যেগুলো নগরবাসীকে পীড়া দিত বছরের পর বছর, সেগুলোর সমাধান হয়েছে। মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে বরিশাল সমস্যা ও সম্ভাবনা গ্রুপ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এভাবে কাজে লাগানো যায়। এই আইডিয়া যাঁর মাথা থেকে আসে, তিনি হলেন দিপু হাফিজুর রহমান। তিনি এই গ্রুপটি তৈরি করেছেন। বরিশালের অসংখ্য সমস্যার সমাধানে গ্রুপটি ভূমিকা রেখেছে। এটিকে অনুসরণ করে অসংখ্য জেলায় এমন ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। সেখানকার মানুষও উপকৃত হয়েছে। শুধু দেশ নয়, সারা বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে দিপুর এই আইডিয়া। বিভিন্ন আন্তজার্তিক সম্মেলনে তিনি আমন্ত্রিত হয়েছেন। সম্মানিত হয়েছেন এই উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের জন্য। সম্প্রতি ইউএন এসডিজি ক্যাম্পেইন ২০১৯-এ বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দিপু হাফিজুর রহমান অংশগ্রহণ করেন। তিনি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক। জার্মানির বন শহরে ২ থেকে ৪ মে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রক্রিয়া উদ্ভাবন ও চর্চার কারণে তিনি সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়েছেন। ১৩০টিরও অধিক দেশের বিভিন্ন সংস্থা, সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তা, নীতি নির্ধারক, রাজনীতিক, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দিপু হাফিজুর রহমান উদ্ভাবনী আইডিয়ার জন্য গত বছর ভারতের দিল্লিতে আয়োজিত সোশ্যাল মিডিয়া এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৯-এ অংশগ্রহণ করেন। তাঁর উদ্ভাবনী আইডিয়া সরাসরি এসডিজির তিনটি লক্ষ্যমাত্রা এবং পরোক্ষভাবে আটটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবেও তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। অভিনয়, নাটক লেখা, নির্দেশনার কাজও করেছেন তিনি। বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদনা, পত্রপত্রিকায় তিনি লেখালেখিও করেন। দিপু বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করতে আমি ভালোবাসি। যতদিন বেঁচে আছি, মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’
