বাবার পর ছেলের কাছে হার কাদের সিদ্দিকীর 

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪, ১৮:৪১

বহুল আলোচিত টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার পর ছেলের কাছে ভোটে হেরেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয় বিজীয় হয়েছেন। 

১৯৯৯ সালের উপনির্বাচন ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ আসনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে পরাজিত করেন অনুপম শাহজাহান জয়ের বাবা প্রয়াত কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে শওকত মোমেন শাহজাহান বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। 

শওকত মোমেন শাহজাহানের মৃত্যুর পর তার ছেলে অনুপম শাহজাহান জয় ২০১৪ সালে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। অনুপম শাহজাহান জয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। নির্বাচনে ২৮ হাজার ৯০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। এ আসনে মোট ১২৭টি ভোট কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয় নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪০১ ভোট। কাদের সিদ্দিকী গামছা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫০১ ভোট। বাবার পর ছেলে অনুপম শাহজাহান জয়ের কাছেও কাদের সিদ্দিকী ২৮ হাজার ৯০০ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেলেন। টাঙ্গাইলজুড়ে এ আসনের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। আলোচনাটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। 

এর আগে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে টানা ভোট গ্রহণ। সারাদিন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনারও খবর পাওয়া যায়নি। এ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৯০ হাজার ১১৯ জন। গড়ে দুই উপজেলায় ৪২ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে সখীপুরে ৪৮ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।  

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হোসেন পাটওয়ারী বলেন, কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৮ আসনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন। এর সাড়ে তিন বছরের মাথায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিলে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ দল গঠন করে নিজ দল থেকে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ইত্তেফাক/পিও