আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বাড়িয়েছে ইরান। দুনিয়াজুড়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা ইউরেনিয়ামের মজুত বাড়ানো হয় শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, যেমন: চিকিত্সা কাজে বা বিদ্যুত্ উত্পাদনের কাজে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু এটি যদি অত্যধিক পরিশোধিত হয়, তাহলে সেই ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক বোমা বানানো যায়।
২০১৮ সালের মে মাসে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং নতুন করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও, এর ইউরোপীয় মিত্র ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি ইরানের সঙ্গে চুক্তি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইরানও যাতে চুক্তি না ভাঙে সে জন্যও ইউরোপীয় দেশগুলো তেহরানের প্রতি ক্রমাগত আহ্বান জানিয়ে আসছিল। কিন্তু একের পর এক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অতি সম্প্র্রতি উপসাগরে মার্কিন সামরিক তত্পরতার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠে। খবর বিবিসি বাংলার।
আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা আইএইএ যদি একে চুক্তির লঙ্ঘন বলে ঘোষণা করে তাহলে জাতিসংঘ এবং বৃহত্ শক্তিগুলো ইরানের ওপর আরো অবরোধ আরোপ করতে পারে। এদিকে, ৭ জুলাইয়ের মধ্যে যদি বৃহত্ শক্তিগুলো এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ইরান চুক্তির আরো লঙ্ঘন করতে পারে এমন একটি সতর্কতা দিয়ে রেখেছে। ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তির শর্ত ভাঙার এই খবরের পর পারমাণবিক চুক্তিটির ভবিষ্যত্ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।
শুক্রবার ভিয়েনাতে এক বৈঠকের পর, ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব প্রশমনে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সোমবার রাষ্ট্রীয় টিভিতে এক ভাষণে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, ‘চাপের কাছে ইরান কখনোই নতি স্বীকার করবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি কথা বলতে চায়, তাহলে হুমকি ধামকি বন্ধ করে, সম্মান করে কথা বলতে বলতে হবে।’
