ট্রাম্পের উত্তর কোরিয়া প্রবেশের তাত্পর্য

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৫

জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প গিয়াছিলেন জাপান। তথা হইতে ছুটিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায়। ইহার পরে বলা নাই কওয়া নাই উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জন-উনকে দেখা দিবার ইচ্ছা প্রকাশ করিয়া টুইট করিলেন। অতঃপর রবিবার আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে উত্তর কোরিয়া ঢুকিয়া উনের সহিত ফটোসেশন করিলেন ও ঘণ্টাখানেকের একটি বৈঠকেও বসিলেন। ইহা যেন ভোজবাজি। কূটনীতির সকল সূত্র যেন হাওয়ায় মিলিয়াছে। ট্রাম্পের পক্ষের লোকেদের মতে আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট কূটনীতির উপরে উঠিয়া জাতীয় স্বার্থ হাসিল করিতে সক্ষম। বিরোধীদের মতে এহেন নাটকীয়তায় উত্তর কোরিয়া প্রবেশের সহিত সামনের বত্সরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্পর্ক আছে। অন্য আরেকটি পক্ষের মতে ট্রাম্পকে উনকে লইয়া নহে বরং উনই ট্রাম্পকে লইয়া খেলিতেছেন।

ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ায় আচমকা প্রবেশের মধ্য দিয়া আমেরিকার জন্য কী অর্জন করিয়া আনিয়াছেন? পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প হইতে উত্তর কোরিয়াকে এক চুল সরাইতে পারিয়াছেন কি? গত ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকটি নিষ্ফলা হইবার পরে দুই পক্ষে একাধিকবার হুমকি-ধমকি বিনিময় হইয়াছে। ইহার পরে হঠ্যাত্ কী এমন ঘটিল যে আচমকা দক্ষিণ কোরিয়া সীমানা অতিক্রম করিয়া উত্তর কোরিয়া ঘুরিয়া আসিলেন ট্রাম্প? সমালোচকদের মতে, সাবেক টেলিভিশন তারকা ট্রাম্প জানিয়া-বুঝিয়াই এই কাজ করিয়াছেন। তিনি খুব ভালো করিয়াই জানেন যে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে উত্তর কোরিয়া প্রবেশের খবরের নিচে অন্যসব খবর কয়েক দিনের জন্য চাপা পড়িয়া যাইবে। তাহার অনুমান সঠিক। বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হইতে ইচ্ছুক রাজনীতিকদের প্রথম দফা বিতর্ক লইয়া সংবাদমাধ্যমের মাতামাতির ব্যাপারটি রবিবার হইতেই পিছনে সরিয়া গিয়াছে। সংবাদমাধ্যমগুলি ট্রাম্প-উনের ফটো ও টুটকা-ফাটকা খবরে ভরিয়া গিয়াছে। এইদিকে উন রহিয়াছেন উনের জায়গাতেই। তিনি কোনো কিছুই অঙ্গীকার করেন নাই। বরং তাঁহার অনুপস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার কোনো প্রতিনিধি যে কাহারো সহিত পরমাণু প্রকল্পবিষয়ক এক বিন্দু আলোচনা করিতে পারিবেন না— তাহা নতুন করিয়া জানান দেওয়া হইয়াছে। ট্রাম্প একবার বলিয়াছেন যে উত্তর কোরিয়ার ওপরে অবরোধ জারি থাকিবে। আবার অবরোধ খানিকটা শিথিল করা হইতে পারে বলিয়া ইঙ্গিত করিয়াছেন। তেমন কিছু হইলে উনের জন্য সোনায় সোহাগা হইবে।

ধারণা করা হইতেছে যে, আগামীবারের জন্য প্রার্থীপদ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া লইয়া এহেন খবর জন্ম দিতে থাকিবেন ট্রাম্প। বিশেষ করিয়া দেশটিকে পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প হইতে সরাইয়া আনা এবং প্রতিবেশী দুই কোরিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা লইয়া তিনি মাতামাতি করিতে থাকিবেন বলিয়া মনে করা হইতেছে। ইহার মধ্য দিয়া ট্রাম্প নিজের প্রচারণার কাজটি সারিয়া ফেলিবেন। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম নৃশংস একজন শাসক যে একগাদা পরমাণু অস্ত্র হস্তগত করিয়া ফেলিয়া বসিয়া আছেন, তাহার সুষ্ঠু সুরাহা কেমন করিয়া হইবে? কিংবা উত্তর কোরিয়া যেই প্রশ্নগুলি তুলিতেছে সেইগুলি লইয়া ভালো করিয়া আলাপ-আলোচনা হইবে কি? এইসব প্রশ্নের উত্তর ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আছে বলিয়া মনে হয় না।