বিয়েতে উপহারের প্রচলিত প্রথাকে ‘না’ বলি

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৯, ২১:৩৬

বিয়ের দাওয়াত একটা আনন্দের ব্যাপার। কিন্তু দাওয়াত পেয়ে এখন মানুষ খুশি হওয়ার চেয়ে উপহারের কথা চিন্তা করে হিসাব কষতে থাকে। অন্যদিকে যাঁরা দাওয়াত দিয়েছেন তাঁরাও অনুষ্ঠানে গিফট টেবিলের ব্যবস্থা করে থাকেন। কে কী দিলেন তা খাতায় লিখে রাখা হয়। কেউ কেউ আছেন যাঁরা এই উপহারের হিসাব লিপিবদ্ধ করা খাতাটি সযত্নে সংরক্ষণ করেন। কেউ দাওয়াত দিলে সেই পুরনো খাতা বের করে দেখেন, তিনি তাঁর দাওয়াতে কী দিয়েছিলেন। সেটা দেখে তার উপহার নির্ধারণ করা হয়! এ কেমন সম্পর্ক! এদিকে উপহার কেনার বিড়ম্বনায় অনেক গরিব মেহমান বিয়েতে অংশ নিতে পারেন না, বা তাঁদের আর্থিক অবস্থা সবার সামনে প্রকাশ পাবে এমনটি ভেবে কষ্ট করে হলেও উপহার জোগাড় করে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচতে হলে যেন এমনটি করতেই হয়। আসলে আমরা সামাজিক রীতিনীতিকে এতটাই কঠিন করে ফেলেছি যে, তা কখনো মানুষকে বাধ্য করছে! তাই কিছু মানুষ মন থেকে সেগুলো মেনে না নিলেও ‘সমাজে থাকতে হলে এসব করে থাকতে হবে’ এমন একটা ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। এমন মন-মানসিকতা এবং চিন্তাকে বদলাতে হবে।

আমি উপহার দেওয়া কিংবা নেওয়ার বিপক্ষে না; তবে প্রচলিত উপহার পদ্ধতির বিরোধিতা করছি। বর্তমান সমাজে বিয়েতে উপহার সামগ্রী প্রদান প্রথা দেখে মনে হয়, মেহমানরা বাধ্য হয়েই উপহার নিয়ে আসেন। এ যেন উপহারের বিনিময়ে খাদ্য! তাই বিয়ে-শাদিতে এই উপহারের সিস্টেমটা পরিবর্তন করা একান্ত দরকার। আত্মীয়দের মধ্যে কে বড়লোক, কে গরিব এসব বাছ-বিচার না করে এবং কারো কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশা না করে সন্তুষ্ট চিত্তে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দাওয়াত খাওয়াতে হবে। আসুন বিয়ে-শাদিসহ সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপহারের প্রচলিত প্রথাকে পরিহার করি।

এহসান বিন মুজাহির, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার