বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

“মহাকালের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান”

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৪, ২২:০১

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় কবি বলেছেন -

“হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ। 
কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে,
সে কোলাহলে রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ
জলে ও মাটিতে মাটিতে ভাঙ্গনের বেগ আসে।.....

সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী 
অবাক তাকিয়ে রয়,
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।”....দূর্মর, সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭)

মাথা উঁচু করে বাঁচার, সাহসী এক খোকার আগমন ঘটে পূর্ব বাংলায়। যাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে! তাঁর আত্মত্যাগ ও জীবন কর্মে এদেশের মানুষ উপহার পেয়েছে একটি নাম বাংলাদেশ। পূর্ব বাংলার মানুষেরা পশ্চিম পাকিস্তানিদের দ্বারা নির্যাতিত-বঞ্চিত-অবহেলিত জাতি হিসেবেই ব্যবহৃত হত! মাথা নত না করা খোকা তখন স্বপ্ন দেখে স্বাধীন বাংলাদেশের।

মানুষ তার কর্মের মধ্যেই বাঁচে। ব্যক্তিজীবনে যত আনন্দ উপলব্ধি করে না কেন যারা অন্যের চিন্তা করে, সমাজের চিন্তা করে, রাষ্ট্রের উন্নতি সাধনে নিজেকে বিলিয়ে দেয় তারা মহান পুরুষ। বাংলাদেশ নামটির সঙ্গে যিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত তিনি আর কেউ নন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তান যারা চেয়েছিলেন তারা বাংলাদেশ চায়নি। তারা পূর্ব পাকিস্তান ও মুসলিম শাসনের রূপরেখা চেয়েছিল। দুটো ভূখণ্ড চেয়েছিল। শিশু বালক খোকা ছোট বয়স থেকেই অপ্রতিরোধ্য, সাহসী ও নির্বাক ছিলেন। অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করতেন না, অন্যায় কে প্রশ্রয় দিতেন না। সমাজের কল্যাণে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। ছিলেন না সাম্প্রদায়িক বিরোধী ও অন্যের প্রতি নির্মম। বাংলাদেশ হবে তা সবার স্বপ্ন ছিল না, সব নেতাদের স্বপ্ন ছিল না, সবাই নেতা হয়ে ওঠেনা। নেতা হয় সে যাঁর ভেতর স্বপ্ন  মহাসাগর পাড়ি দেওয়া। যিনি জয় করেছেন সবুজের বুকে লাল একটি পতাকা। বলা হয়ে থাকে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছে। কিন্তু কার অবদান? কে ছিল ? যারা তাঁর ডাকেই ৭ই মার্চের ভাষণে যুদ্ধে নেমে পড়েছে। প্রাণ দিয়েছে, শহীদ হয়েছে, কেউ বিধবা হয়েছে। কেউ সন্তান হারা হয়েছে, কেউ বাস্তভিটা হারা হয়েছে, কারোর পরিবার ধ্বংস হয়েছে। সবকিছুর পেছনে কারও না কারও দিকনির্দেশনা লাগে। সেই দিক নির্দেশক আর কেউ নন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রশংসা সেই পায় যিনি প্রশংসার যোগ্য। যারা অযোগ্য তাদেরকে কেন প্রশংসা করবে মানুষ! বাংলাদেশকে এই দেশের মাটিকে, রাজনীতিকে তাঁরা শুধু বঙ্গবন্ধুর নামের আদর্শের সৈনিক হিসেবেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত আছেন। মানুষ যখন নিজের গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমায় তখন স্মৃতিগুলো আওড়ায়। দেশ ছেড়ে প্রবাসে যায় তখনো দেশের কথা মনে করে নিরবে কাঁদে। বঙ্গবন্ধু তো প্রবাসী ও ছিলেন না গ্রাম থেকে শহরেও যাননি। তিনি কারা বাস করেছেন, জেল খেটেছেন। তার মত এত দীর্ঘ সময় জেল খেটেছেন এমন রাজনৈতিক নেতা পৃথিবীতে বিরল। তিনি ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে সর্বমোট ৪ হাজার ৬৬২ দিন কারাভোগ করেছেন। নিজের দেশকে দেশের মানুষকে ভালোবেসে যিনি নীরবে-নিভৃতে কারাবাসকেই সঙ্গী করেছেন। পাকিস্তানের জেলে, আগরতলার জেলে দিনের পর দিন অপমানিত হয়েছেন। মানসিক নির্যাতনে জর্জরিত হয়েছেন। পাষণ্ড পাকিস্তানিরা এতটাই নির্যাতন করেছে যার হিসেব কষে শেষ করা যাবে না।

নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাবাস করেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতির পিতা জনক হিসেবে তিনি পরিচিত, বর্ণবাদ বিরোধী নেতা, সমাজ সংস্কারক, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়ের প্রদ্বীপ ব্যক্তিত্ব! বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ-সফল নেতৃত্ব একটি স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এই সফল নেতার জন্ম ১৯২০ সালে।

জাতির পিতার ভাষ্যমতে তার জন্ম পরিচিতি:

‘আমার জন্ম হয় এই টুঙ্গিপাড়া শেখ বংশে। শেখ বোরহান উদ্দিন নামে এক ধার্মিক পুরুষ এই বংশের গোড়াপত্তন করেছেন বহুদিন পূর্বে।’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী- পৃষ্ঠা ৩)

‘শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির দালান প্রায় দুইশত বছরের পুরানো। শেখ কুদরত উল্লাহ ও একরামউল্লাহ শেখের মৃত্যুর দুই এক পুরুষ পর থেকেই বাড়ির পতন শুরু হয়।পর পর কয়েকটা ঘটনার পরেই শেখেদের আভিজাত্যই থাকল,অর্থ ও সম্পদ শেষ হয়ে গেল।’ (পৃষ্ঠা ৪, অসমাপ্ত আত্মজীবনী)

ইংরেজদের প্ররোচনাও শেখদের ব্যবসা সম্পত্তির ধ্বংসের পিছনে লেগে থাকত। কারণ শেখরা ইংরেজদের গ্রহণ করতে পারত না। ইংরেজরাও মুসলমানদের অপছন্দ করত!

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের লেখা তিনটি গ্রন্থের মধ্যে কারাগারের রোজনামচা পড়লে জানা যায় তাঁর জেল জীবনের দুঃসহ বেদনা কতটা রোমহর্ষক। কারাগারের রোজনামচা বাংলা একাডেমি থেকে ২০১৭ সালে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়! ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাবার জীবনের ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে স্মৃতিচারণ করেছেন। ভূমিকায় মুজিব কন্যা বলেন, ‘বার বার গ্রেফতার হন তিনি। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়। আইয়ুব-মোনায়েম স্বৈরাচারী সরকার একের পর এক মামলা যেমন দেয়, সেই মামলায় কোনো কোনো সময় সাজাও দেওয়া হয় তাকে। তার  জীবনে এমন সময়ও গেছে যখন মামলার সাজা খাটা হয়ে গেছে, তারপরও জেল বন্দি লরে রেখেছে তাঁকে। এমনকি বন্দিখানা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন নাই, হয় পুনরায় গ্রেফতার হয়ে জেলে গেছেন অথবা রাস্তা থেকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে।" কারাগারের রোজনামচা-পৃষ্ঠা, ৫

বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে জাতির পিতার ব্যক্তিজীবনের আরাম -আয়েশ পরিত্যাগ করে স্বেচ্ছায় সর্বোচ্চ সাজা জেলের ভেতর দিনের পর দিন বন্দি থেকেছেন!

জেল কী, জেল জীবনে কতটা অপমানিত, লাঞ্ছিত ও অধিকারবঞ্চিত হতে হয় তা কেউ নিজে জেল না খাটলে বলতে পারবে না। লাগবে স্ব স্ব অভিজ্ঞতা!!

কারাগারের রোজনামচায়  শুরুতেই জেল সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়- "জেলে যারা যায় নাই,জেল যারা খাটে নাই-তারা জানে না জেল কি জিনিস।বাইরে থেকে মানুষের য়ে ধারণা  জেল সম্বন্ধে ভেতরে একদম উল্টা। জনসাধারণ মনে করে চারদিকে দেওয়াল দিয়ে ঘেরা, ভিতরে সমস্ত কয়েদি একসাথে থাকে, তাহা নয়। জেলের ভিতর অনেক ছোট ছোট জেল আছে!" (কারাগারের রোজনামচা-পৃঃ২৭) জেল মূলত ভালো মানুষের জন্য নয়! জেলের বাসিন্দা মানে চোর, ডাকাত,খুনি, সন্ত্রাসী,পাগল, রাজদ্রোহী নানান রকমের মানুষের বাস।বাহির থেকে মানুষের ভ্রান্ত ধারণাকে ভাঙ্গার জন্যই শেখ মুজিবুর রহমান বললেন জেলের ভেতর রয়েছে ছোট ছোট জেল ! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজবন্দি হিসেবে জেল খেটেছেন। কোনো সময় সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেছেন।আবার কখনও হাজত  বাসও করতে হয়েছে ! জেল সম্পর্কে নানা রকম অভিজ্ঞতা জাতির পিতার যাপিত জীবনে রয়েছে!

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শফিকুর রাহির লেখা একটি গান মনে পড়ে।

বীর দর্পে ফিরল দেশে সোনার জীবন কাঠি। 
আনন্দে- অশ্রুতে ভাসে বাংলাদেশের মাটি। 
জাতির পিতার আগমন সুখ- আনন্দে বানে।
মাটি মানুষ উঠল হেসে, দুঃখ ভোলার গানে। 
প্রাণের টানে -লাখো মানুষ ,আনন্দ- উল্লাসে ,
আবেগেরই শ্রাবণ ধারা বইলো যে বাতাসে। 
চাঁদসুরুজের কুলোকুলি দূর আসমানে। 
জয় বাংলারই - জয়ধ্বনি  নায়ের পাল তোলে।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের পর কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন এই দিনে। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নিজের নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেন দেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ, অর্থনৈতিক সংকট, শিক্ষার সংকট, রাজনৈতিক গতি পরিবর্তন, দারিদ্রতা বিমোচন সবগুলো জটিলতা তাকে ভাবুক করে তুলে। নিজের জন্য ছিল খুব চ্যালেঞ্জিং, নতুন একটি দেশ, একটি পতাকা, একটি মানচিত্র, সুশিক্ষা প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, মৌলিক চাহিদা মেটানোর কাজগুলোকে কীভাবে সামলে দেশের গতানুগতিকতা রক্ষা করবে। মুক্তিলাভের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেখ মুজিবুর রহমান উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। দেশে ফিরে এসে তিনি বলেন- ‘পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি অবস্থায় কোন খবরই আমার কাছে পৌঁছোতো না। কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল বাঙালির সংগ্রাম জয়যুক্ত হবেই, আমার প্রেম স্বাধীন হবেই, আমার ফাঁসির হুকুম হয়েছিল, আমি ফিরে আসতে পারবো। আবারো আপনাদের সাথে দেখা হবে। তবে মনে বিশ্বাস ছিল- আমি মুসলমান, মৃত্যু আমার আল্লাহর হাতে। আল্লাহর রহমত ছিল আপনাদের দোয়া ছিল। আমি আবার দেশের মাটিতে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পেরেছি । এ ফেরা যেন অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা। বাংলাদেশকে নতুন রূপে- নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে তিনি সবাইকে নিয়ে নতুন সংবিধান গড়ে তোলেন। মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই তিনি সংবিধান প্রণয়ন করেন।

ছড়াকার তপন বাগচীর চিরকালের বঙ্গবন্ধু ছড়ায় বলেন-

‘টুংগীপাড়ার শ্যামল গায়ের দস্যি ছেলে
স্বাধীন দেশে বুকের তাজা রক্ত ঠেলে
ভালোবাসায় আঁকলে সোনার বাংলাদেশ
যতই লিখি তোমার কথা হয় না শেষ
তোমার ত্যাগের হতে চল বঙ্গভূমি বন্ধু চিরকালের বন্ধু তুমি’

মহান এই বাঙালির কোনো মৃত্যু নেই। মৃত্যু মানুষের কর্মকে বাঁচিয়ে রাখে। কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষ বাঁচে। পৃথিবীর বিখ্যাত সকল নেতাদের মতই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও চেষ্টা করেছেন নিজের কর্মের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে। ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বাংলাদেশকে নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম, চেষ্টায় ও মেধায় দুর্বল অর্থনৈতিক চাকাকে নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক নতুন দ্ধার উন্মোচন করে।

অকৃতজ্ঞ জাতি বলে এভাবে পরিবারেরে সবাইকে একসঙ্গে রাতের আঁধারে হত্যা করা হয়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকলের রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল। রক্তের জোয়ারে প্রতিটি ফোটায় ফোটায় লিখিত ছিল আমি একটি বাংলাদেশ চাই- আমি একটি দেশ চাই- যে দেশে থাকবে না হত্যা, অরাজকতা অপরাধ –লুণ্ঠন- ধোঁকা অন্যায়ের প্রতিটি শব্দ শিরচ্ছেদ হবে এ দেশ থেকে।

কবি বীরেন মুখার্জীর ‘তর্জনীর কলরব’ কবিতায় লিখেছেন -
“বসন্ত খুব দ্রুতই ফুরিয়ে গিয়েছিল সে বছর 
বিপরীতে দিনগুলো দীর্ঘ, তোমাকে উঠিয়ে নিলে -
আমরা মানি নি পঞ্জিকার বারণ ,মর্মে গেঁথে নিয়েছি 
গোয়াঁর বিকেল আর সুউচ্চ-তর্জনের কলরব।”

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৩ বছর পরও- ২০২৩ সালে এসে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ আজ একটি প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র। নিজস্ব স্বকীয়তায় অর্থনীতি, শিক্ষা, সমাজব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় উন্নতীকরণ, বেকারত্ব নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের একটি মানচিত্র- লাল সবুজের পতাকার বুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিরাজমান। মৃত্যুর পরেও সমগ্র বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় বঙ্গবন্ধুর নামে শিক্ষা- প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়। যেমন স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা ,বিশ্ববিদ্যালয় ইন্সটিটিউট, ছাত্রাবাস ও মসজিদ স্থাপন করেন। দেশ- বিদেশের সড়ক ও সেতু বঙ্গবন্ধুর নামে স্থাপন করা হয়। স্মৃতি সংগঠন,গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে সামরিক স্থাপনার ও নামকরণ করা হয়। পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান সংস্থার নামকরণ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর নামে বিভিন্ন বৃত্তি, পদক, সভা, কমিটি ও ট্রাস্ট রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে   লাইব্রেরি, মঞ্চ ও  বঙ্গবন্ধু কর্নার রয়েছে। শিল্পচর্চায় বঙ্গবন্ধুর চেয়ার, চিত্র, তোরণ কেন্দ্র রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হিসাব করলে বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সারা বাংলাদেশে প্রায় ৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশ -বিদেশের বিভিন্ন সড়ক ও সেতু বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪০টি সড়ক সেতু তাঁর নামে নির্মাণ করা হয়।

একজন মানুষ কতটা উদার ও মানবিক হলে সমস্ত জীবন নিবেদন করেছিলেন মানুষের কল্যাণের নিমিত্তে। দেশের জনগণ ছিল তাঁর পরম উদারতার জায়গা। জীবনের সবটুকু দিয়ে যিনি জনগণের কল্যাণের নিমিত্তে ,শত - সংকট ও প্রতিকূলতাকে উতড়ে বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম, সুদূরপ্রসারী চিন্তাই আজকের বাংলাদেশে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারছি। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু শব্দ দু’টো বাঙালি জাতির নিজস্ব সত্তা। মহাকালের মহামানব বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দিবস সফল হোক। শুধু ১০ জানুয়ারি নয় বঙ্গবন্ধু সমগ্র বাঙালির অন্তরে ৩৬৫ দিনই বিরাজমান।

লেখক- কবি ও গবেষক

ইত্তেফাক/এবি