দিন কয়েক আগে এক সাংবাদিক মোসাদ্দেকের কাছে জানতে চাইলেন, গ্যালারিতে এত বাংলাদেশি সমর্থক। এতে চাপ বোধ করেন কি না। সরস একটা উত্তর দিয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। বলেছিলেন, গ্যালারিতে সমর্থক থাকলেও ভালো। না থাকলেও ভালো। দর্শক বেশি থাকলে চাপে থাকতে হয়। এতে সমস্যা হয়। মোসাদ্দেকের এই কথাটা বোধ হয় শুনতে পেয়েছেন বাংলাদেশ সমর্থকরা। তাই ভারতের সাথে গতকালের ম্যাচে তারা তেমন একটা মাঠমুখী হননি। যদিও এর পেছনের কারণটা ছিল ‘টিকিট সংকট’।
খেলার টিকিট আগেভাগে কিনে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের চেয়ে এগিয়েছিলেন ভারতীয়রা। তবে এর পাশাপাশি এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে বিপুল পরিমাণ টিকিট চলে গিয়েছিল কালোবাজারিদের হাতে। সবমিলিয়ে গতকাল এজবাস্টনের গ্যালারিতে বাঘের হুঙ্কার তেমন একটা শোনা যায়নি। নীলের চাপে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল লাল-সবুজ। ম্যাচ শুরুর দিকে বাংলাদেশ সমর্থকদের উল্লাস চোখে পড়লেও খেলা যত গড়িয়েছে ততই লাল-সবুজ সমর্থকদের নিরবতা বেড়েছে।
অথচ পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই ছিল ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশের সাতটি ম্যাচেই গ্যালারি ছিল দর্শকে ঠাসা। কার্ডিফ থেকে ওভাল, ওভাল থেকে আবার কার্ডিফ। এরপর ব্রিস্টল, টনটন, নটিংহাম, সাউদাম্পটন। সব মাঠেই লাল সবুজ পতাকা, জার্সি ও বাঘের পুতুল নিয়ে মাঠে হাজির হয়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশ সমর্থক।
গ্যালারিতে প্রতিপক্ষের সমর্থক থাকলেও আনন্দ উল্লাসে বাংলাদেশের সমর্থকরাই এগিয়ে ছিলেন। বাংলাদেশ সমর্থকদের সরব উপস্থিতি চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
গতকাল সকাল ৯টার দিকে এজবাস্টন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেখা গেল টিকিটের জন্য হাহাকার। কথা হয় অক্সফোর্ড থেকে আসা বৃটিশ নাগরিক নিওর সাথে। ভীষণ ক্রিকেট পাগল এই নিও। নিজেও একসময় নিয়মিত ক্রিকেট খেলেছেন। খেলা ছেড়ে দিলেও যেখানেই ক্রিকেটের গন্ধ পান সেখানেই ছুটে যান। নিও জানালেন, অনেক কষ্ট করে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের টিকিট জোগাড় করেছেন তিনি। ৩০ পাউন্ডের টিকিট কিনতে হয়েছে ৫ গুণ বেশি দাম দিয়ে। শুধু নিও নয়, এমন অভিযোগ করেছেন অনেকেই। স্টেডিয়ামের আশেপাশে অনেককেই দেখা গেল ‘আই ওয়ান্ট টিকিট’ লেখা প্ল্যাকার্ড ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে।
স্থানীয় বাঙালিদের অভিযোগ, এজবাস্টনে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের বেশিরভাগ টিকিট কালোবাজারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। বিশ্বকাপের দিন যতই ঘনিয়ে এসেছে ততই টিকিটের দাম বেড়েছে। শুধু বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নয়, দুদিন আগে ইংল্যান্ড-ভারত ম্যাচের টিকিটও চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গতকালের ম্যাচের টিকিটের দাম ৩০০ পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে দেখা গেছে।
এদিকে, কোনো বৈধ উত্স ছাড়া টিকিট না কিনতে দর্শকদের বারবার সতর্ক করছে আইসিসি। প্রতিটি স্টেডিয়ামের বাইরে বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগানো রয়েছে। এতে আইসিসি বলছে, বৈধ উত্স ছাড়া টিকিট কেনা হলে তা জাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
