পাওনা টাকা চাওয়ায় চোখ উপড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৪, ২১:১০

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এশিয়ান হাইওয়ের পাশ থেকে ফারুক হোসেন (২৬) নামে এক তরুণের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুরের টঙ্গী এবং লক্ষ্মীপুরের রায়পুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, পাওনা টাকা চাওয়ায় ফারুককে হত্যা করা হয়।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন নিজাম উদ্দিন (৩৬) এবং তার চার সহযোগী মো. সোহাগ (৩৮), জহিরুল ইসলাম (৪৮), রনি হোসেন (২৩) ও মো. বাদশা (২৩)।

র‌্যাব জানায়, গত মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রঘুরামপুর এলাকার এশিয়ান হাইওয়ের পাশ থেকে ফারুকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফারুকের পরিবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বাস কাউন্টারে চাকরিসূত্রে নিজাম ও ফারুকের পরিচয় এবং দুইজনের মধ্যে আর্থিক লেনদেন। নিজামের কাছে ফারুক টাকা পেতেন। ফারুক পাওনা টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় ও একপর্যায়ে চোখ উপড়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

খন্দকার মঈন বলেন, নিজাম নিহত ফারুকের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য সোহাগ, জহিরুল, রনি ও বাদশাসহ আরও কয়েক জনের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ জানুয়ারি রাতে নিজাম মোবাইলে ফোন করে ফারুককে টাকা নেওয়ার জন্য কাউন্টারে আসতে বলেন। ফারুক টাকা নিতে কাউন্টারে গেলে নিজামের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে সোহাগ, জহিরুল, রনি ও বাদশা তাকে মারধর করেন।

একপর্যায়ে নিজামের নির্দেশে সোহাগ, জহিরুল, রনি ও বাদশা নিহত ফারুককে জোরপূর্বক ঢাকা এক্সপ্রেসের একটি খালি বাসে উঠিয়ে ফারুকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এরপর সোহাগ ও রনি ফারুকের হাত-পা চেপে ধরে এবং বাদশা বাসে থাকা টুলবক্স থেকে স্ক্রু ড্রাইভার নিয়ে ভিকটিম ফারুকের বাম চোখ উপড়ে ফেলেন।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ফারুকের মৃত্যু নিশ্চিত হলে হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে লাশ বাসে করে রূপগঞ্জের এশিয়ান হাইওয়ে পাশে রঘুরামপুর এলাকার নির্জন রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যান তারা। এরপর জড়িতরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।

ইত্তেফাক/এবি