চাঁদপুরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে জাটকা

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৪৫

পদ্মা-মেঘনায় বছর জুড়ে নিষিদ্ধ থাকলেও চাঁদপুর শহরের একাধিক বাজার ও পাড়া-মহল্লায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছের পোনা জাটকা। আর এসব জাটকা বিভিন্ন দরে ক্রয় করছেন ক্রেতারা। মত্স্য বিভাগ বলছে,খুব শিগগিরই অভিযানে নেমে জাটকা ধরার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের কালিবাড়ী মন্দিরসংলগ্ন চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শহরের পুরান বাজার দোকানঘর এলাকার জাটকাবিক্রেতা মো. নুরুল আমিন জানান, তিনি এসব জাটকা বহরিয়া এলাকা থেকে ক্রয় করেছেন। দুই ভাগে তিনি ৭ হাজার ৫০০ টাকার জাটকা ক্রয় করেছেন জেলেদের কাছ থেকে। এর মধ্যে একদম ছোট সাইজের জাটকা বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৩২০ টাকা এবং একটু বড় সাইজেরগুলো বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা। এসব জাটকার দৈর্ঘ্য ৫ থেকে ৭ ইঞ্চির মধ্যে। এছাড়াও গত কয়েক দিন শহরের পালবাজার এলাকা এবং ওয়ারলেছ বাজারে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি করতে দেখা গেছে একাধিক মাছ ব্যবসায়ীকে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী মত্স্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বছর জুড়েই জাটকা ধরা নিষেধ। এছাড়া ইলিশ ডিম ছাড়ার পর নভেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত আট মাস জাটকা ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ। এর মধ্যে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকাসহ সব ধরনের মাছ আহরণ নিষেধ থাকে। জাটকা বিক্রির বিষয়টি আমারও নজরে এসেছে।’

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মত্স্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম বলেন, ‘জাটকা ধরার খবর আমাদের কাছে এসেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত ছিল। এখন আমরা পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করব। এছাড়াও মত্স্য বিভাগ ছাড়া থানা পুলিশ এবং নৌপুলিশ যে কোনো সময় নিজেরাই অভিযান পরিচালনা করতে পারেন। এক্ষেত্রে আইনে বলা আছে, উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদের এবং তার ওপরের পদের কর্মকর্তা মত্স্য বিভাগ ছাড়াই জাটকা আহরণকারী ও বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনতে পারবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় শুধু মত্স্য বিভাগ নয়, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিক এগিয়ে এলে জাটকা অনেকাংশে রক্ষা পাবে। প্রতিবাদ হিসেবে আমাদের জাটকা ক্রয় করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।’

ইত্তেফাক/এসটিএম