কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসমাইল মাস্টারকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অথচ শিক্ষকের ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামি এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
রোববার (৭ জানুয়ারি) ইসমাইল মাস্টার বলদাঘাট এলাকায় নিজের জমিতে বোরো চাষাবাদের হাল-অবস্থা দেখতে গেলে তিনি অতর্কিত হামলার শিকার হন। অভিযুক্তরা হলেন ইটনা উপজেলার আবাদ হাটি নূরপুর গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে মো. জামসু (৪৭), একই এলাকার মো. ইসলাম মিয়া, আকাশ মিয়া, মো. হাছান মিয়া, মো. সিরাজ মিয়া, মোছা. মদিনা, আঞ্জু মিয়া, মো. নুরুল ইসলাম, মো. কামাল মিয়া, মো. সোহাগ মিয়া, মো. ফজলু মিয়া, আকু মিয়া, আকাশ মিয়া।
জানা যায়, ইটনা উপজেলা সদরের পশ্চিমগ্রাম বানিয়াহাটি গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল মাস্টারের সঙ্গে প্রতিবেশী ইসলাম গংদের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্ববিরোধ চলছিল। গত ৭ জানুয়ারি ইসমাইল মাস্টার ভোট প্রদান করে বেলা একটার দিকে বলদাঘাট এলাকায় নিজের জমিতে বোরো চাষাবাদের হাল-অবস্থা দেখতে গেলে তিনি অতর্কিত হামলার শিকার হন। ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে লাঠি, রামদা, লোহার রড, বল্লম ইত্যাদি অস্ত্র সজ্জিত হয়ে ইসমাইল মাস্টারের ওপর হামলা চালানো হয়। মাথা, হাত-পা ছাড়াও তার সারা শরীর মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রথমে ইটনা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইসমাইল মাস্টারের ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে ইসলাম মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নামে ইটনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
হামলার শিকার স্কুলশিক্ষকের ছেলে ডা. শেখ নবাব সব আসামিদের আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। গুরুতর আহত ইসমাইল মাস্টার বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওনাকে দ্রুত বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে পারিবারিকসূত্রে জানা যায়।
ইটনা থানার ওসি মো. জাকির রব্বানি রোববার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জানান, এই মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরকেও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
