অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া শব্দটির সাথে কমবেশি আমরা অনেকেই পরিচিত। সারাদিনের কর্মব্যস্ত জীবন শেষে মানবদেহের ক্লান্তি মেটাতে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। একজন স্বাভাবিক মানুষের প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এই সময়ের থেকে কম সময় ঘুম হওয়াটাই হলো অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া। ঘুম আসতে দেরি হওয়া, ঘুম বারবার ভেঙে যাওয়া, খুব সকালে ঘুম ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি অভিযোগগুলো করে থাকেন একজন ইনসোমনিয়ায় আক্রান্ত রোগী। ইনসোমনিয়ার রয়েছে নানা কারণ। এর মধ্যে প্রধান এবং অন্যতম কারণ হলো মানসিক চাপ। এছাড়া অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসমস্যায় ভুগে থাকেন যারা একটানা ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন না। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনিদ্রা অনিয়মিত জীবনযাপন প্রণালী থেকে হয়ে থাকে। অনেকেই অনিদ্রা থেকে বেঁচে থাকতে চিকিত্সকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ সেবন করে থাকেন যা একেবারেই অনুচিত্। কিছু বিহেভিয়ারাল থেরাপি কিংবা রিলাক্সেশন থেরাপির মাধ্যমে অনিদ্রার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। দীর্ঘদিন অনিদ্রার সমস্যায় ভুগলে নানা স্বাস্থ্য জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন: হতাশা, মানসিক সমস্যা, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, মনোযোগ নষ্ট হওয়া ইত্যাদি। অনিদ্রা থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘদিন ওষুধ সেবন করলেও সৃষ্টি হতে পারে নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তাই অনিদ্রায় ঘুমের ওষুধ নয়, সঠিক জীবনযাপন করাটাই অতি গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক : চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
