জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর কয়েক মাস ধরে পানির নিচে থাকে যশোরের ভবদহের বিস্তীর্ণ এলাকা। তাই যশোরের দুঃখ বলা হয় ভবদহকে। যুগ যুগ ধরে দুঃখ ঘোচাতে সরকারি অর্থ বরাদ্দ হলেও সমাধান হয়নি জলাবদ্ধতার। সমস্যার সমাধানে সরকার ৮০৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করলেও এলাকাবাসীর বক্তব্য, প্রকল্পের মধ্যে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) অন্তর্ভুক্ত না থাকায় জলাবদ্ধ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
সমস্যা নিরসনের জন্য ‘ভবদহ ও তত্সংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়)’ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) সংশোধন করে ৮০৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী ইত্তেফাককে বলেন, সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবনায় নদী পুনঃখনন, নদী ড্রেজিং, খাল পুনঃখনন, খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণ, বাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণ ও মেরামত রাখা হয়েছে। তবে ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে সবচেয়ে কার্যকর টিআরএম ডিপিপিতে রাখা হয়নি।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, ভবদহ হচ্ছে এই এলাকার অর্থ লোপাটের কারখানা, যেখানে জলাবদ্ধতা দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করা হয়। তিনি বলেন, নদী কেটে নদী বাঁচানো যায় না, নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করেই কেবল নদী বাঁচানো সম্ভব। গত চার বছর ধরে কেবল নদী কাটার নামে প্রহসন করা হচ্ছে। সমস্যার সমাধানে টিআরএমের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, গভীর ষড়যন্ত্রের কারণে গৃহীত বিল কপালিয়ার টিআরএম প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। ৮০৭ কোটি টাকার নতুন যে প্রকল্প, তা এই অঞ্চলের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, নদী ও ভূমি সম্পর্কিত জনগণের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষজ্ঞদের বিজ্ঞানসম্মত মতামতের পরিপন্থি। এতে মহলবিশেষের রাষ্ট্রের অর্থ লোপাটের সুযোগ পাচ্ছে।
ভবদহ আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ গৃহীত হওয়ার পর জলাভূমি রক্ষার ওজুহাতে টিআরএম প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে, যা আদৌ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই অঞ্চল নিকট অতীতেও দোফসলা-তিনফসলা জমি হিসেবে চাষাবাদ হয়ে এসেছে। এই রূপ দোফসলা-তিনফসলা জমিকে জলাভূমি বলে চালিয়ে দেওয়া কোনো শুভবুদ্ধির লক্ষণ নয়।
স্মারকলিপি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলন : এদিকে ভবদহ সমস্যার সমাধানে সোমবার ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয় এবং স্মারকলিপি প্রদান করে। পরে নেতৃবৃন্দ যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। উভয় কর্মসূচিতে ভবদহ সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম হিসেবে অবশ্যই টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক এনামুল হক বাবুল, অভয়নগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর, মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র সুশান্ত দাস শান্ত এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
