২৪ ঘন্টার প্রবল বৃষ্টিতে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি ও বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শহরতলির মালাড অঞ্চলে একটি বস্তিতে দেয়াল ধসেই মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। আহত হয়েছেন অনেকে। জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। মুম্বাইয়ে গতকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। অনেক রাস্তায় পানি জমেছে। খবর বিবিসির
মুম্বাই শহরের ‘লাইফলাইন’ বলে পরিচিত শহরতলির ট্রেন পরিষেবাও প্রায় বন্ধ। অন্যদিকে শতাধিক ফ্লাইট হয় বাতিল কিংবা অন্য গন্তব্যে সরিয়ে নিতে হয়েছে। বস্তুত মুম্বাই ও তার আশেপাশে ২৪ ঘন্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, ২০০৫ সালে সেখানে ভয়াবহ ও বিধ্বংসী বন্যার পর তা আর কখনো হয়নি। এদিন ভোররাতে উত্তর শহরতলির মালাড ইস্টে টিলার নিচে একটি বস্তির ওপর কম্পাউন্ড দেয়াল ধসে পড়লে ২২ জনের মৃত্যুসহ অনেকে আহত হন। ১০ বছরের বাচ্চা মেয়েকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
বস্তিবাসীরা জানিয়েছেন, ওই দেয়াল ঘেঁষে আগে একটা নালা ছিল, কিন্তু সেটাও এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নালা দিয়ে পানি বের হতে না পেরে ওই পানির ধাক্কাতেই দেয়াল ধসে পড়ে। সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। নিহতদের পরিবারের জন্য মহারাষ্ট্র সরকার এককালীন ৫ লাখ রূপি আর্থিক সহায়তাও ঘোষণা করেছে। মুম্বাইয়ের কাছে থানেতেও একটি স্কুলবাড়ির দেয়াল ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে যার মধ্যে মাত্র তিন বছরের একটি শিশুও ছিল। সেখানেও স্থানীয় বাসিন্দারা যথারীতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মালাডের আহত বস্তািসীদের হাসপাতালে দেখে আসার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিস জানান, নজিরবিহীন বৃষ্টিই আসলে প্রশাসনকে বেসামাল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, গত রাতে (সোমবার) মুম্বাইজুড়ে খুব বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ৪০০ মিলিমিটারেরও বেশি। মালাডে দেয়াল ধসে পড়াসহ নানা দুর্ঘটনা হয়েছে এই কারণেই।
মুম্বাই বিমানবন্দরের মূল রানওয়ে থেকে একটি বিমান ছিটকে পড়ায় সেটিও বন্ধ ছিল। ট্রেনলাইন পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় সেন্ট্রাল লাইন গতকাল রাত পর্যন্ত অচল ছিল। তবে ওয়েস্টার্ন লাইন সার্ভিস ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছিল। এদিকে সোমবার গভীর রাতে শহরের একটি জলমগ্ন আন্ডারপাসে গাড়ি আটকে যাওয়ার পর গাড়ির ভেতরেই দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। কারণ আপনা থেকে জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তারা আর গাড়ির দরজা খুলতেই পারেননি। রাতের দায়িত্ব পালন করে বহু মানুষ সোমবার নিজেদের বাড়িতেও ফিরতে পারেননি। বহু শ্রমজীবী মহিলা স্টেশনেই আটকে পড়েন। কেউ কেউ আবার ছুটির দিনে ফাঁকা রাস্তার সুযোগ নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি নিজের কাজের জায়গায় চলে আসেন। মওসুমি বৃষ্টির মাসগুলোতে মুম্বাই প্রায় প্রতিবারই বৃষ্টিতে নাকাল থাকে। কিন্তু এবার মওসুমের প্রায় গোড়ার দিকেই মুম্বাই যেভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লো তা গত দেড় দশকে হয়নি।
