বন্দর ব্যবহারকারী আর ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে অবশেষে খুলনা থেকে মোংলায় স্থানান্তর করা হয়েছে মোংলা কাস্টম হাউজের সব কার্যক্রম। বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছর পর নতুন অর্থবছরের প্রথম দিনেই মোংলায় কাস্টমস হাউজের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলো। এর আগে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি খুলনা থেকে কাস্টমস হাউজ মোংলায় স্থানান্তর করার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এখন থেকে রপ্তানি ও আমদানি শুল্কায়নসহ যাবতীয় কার্যক্রম মোংলা বন্দর থেকেই সম্পন্ন করতে পারবেন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। এতে বিড়ম্বনা দূরসহ সময় সাশ্রয় হবে ব্যবসায়ীদের। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও গতি বৃদ্ধিসহ বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস সূত্র জানায়, ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর চালনা পোর্ট নামে মোংলা সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম ‘মোংলা কাস্টম হাউজ’ নামে খুলনার খালিশপুর থেকে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তখন থেকেই বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের শুল্কায়নসহ পণ্য খালাসের জন্য দুই থেকে তিন দফায় খুলনা-মোংলা যাতায়াত করতে হয়। বন্দরে কাজ শেষ করে কাস্টম ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আবারও খুলনায় যেতে হয়। পরে ঐ কাগজ নিয়ে আবার বন্দরে ফিরে এসে জমা দিতে হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। অন্যদিকে সব প্রাশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আইজিএম (জাহাজে আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্যের ঘোষণা) দাখিল, আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্যের শুল্কায়ন, ব্যাংকিং কার্যক্রম ও রাসায়নিক পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত মূল কার্যালয় থেকে সম্পন্ন হয়ে আসছিল।
বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মোংলা বন্দর থেকে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ কাস্টমস হাউজে গিয়ে শুল্কায়নের কার্যক্রম করাতে ভোগান্তি লাঘবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা কাস্টমস হাউজ খালিশপুর থেকে মোংলায় স্থানান্তরিত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের এ দাবির মুখে চলতি বছরের প্রথমদিকে মোংলায় আংশিক স্থানান্তর করা হয়। এরপর নিজস্ব ভবনে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে পহেলা জুলাই সোমবার কমিশনার সুরেশ চন্দ যুগ্ম কমিশনার সেলিম শেখ, উপকমিশনার সেলিম রেজা, চেম্বার নেতৃবৃন্দসহ বন্দরের বিভিন্ন ক্যাটাগরির ব্যবসায়ী, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী নেতা ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র আলহাজ মো. জুলফিকার আলী বলেন, নানা জটিলতা উপেক্ষা করে বন্দর প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৬৮ বছর পর পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস অফিস খুলনা থেকে মোংলায় এসেছে। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেলেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি আরো কমানোর জন্য বন্দরের শিল্প এলাকায় সব ব্যাংকের শাখা চালু ও মাসে অন্তত দুটি কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানোর দাবি জানান তিনি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এ কে এম ফারুক হাসান বলেন, বন্দরের সব কার্যক্রম খুলনা থেকে মোংলায় স্থানান্তরিত হওয়ায় ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা উপকৃত হবেন। এ অবস্থায় বন্দরের সার্বিক গতি বৃদ্ধিসহ কর্মচাঞ্চল্য আরো বাড়বে।
