উড়ন্ত বিমান থেকে মৃতদেহ পড়ল বাড়ির বাগানে

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৮

লন্ডনের দক্ষিণে ক্ল্যাফাম এলাকার এক বাসিন্দা রবিবার বিকালে তার বাড়ির বাগানে রোদ পোহাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি তার চোখের সামনে যা দেখলেন— তা তার কল্পনারও অতীত ছিল। তার মাত্র কয়েক গজ দূরে আকাশ থেকে ধপ করে একটি মৃতদেহ এসে পড়ে। রক্তে ভেসে যায় তার বাগানের একাংশ। পুলিশ জানিয়েছে, হিথরো বিমানবন্দরগামী কেনিয়ান এয়ারওয়েজের একটি বিমান থেকে মৃতদেহটি এসে পড়েছে। খবর:বিবিসি।

যে বাড়ির বাগানে মরদেহটি পড়েছে সেটির পাশের বাড়ির বাসিন্দা বিবিসিকে জানান, হঠাত্ ‘ধপাস’ করে পতনের জোর একটি শব্দ শুনে দোতলার জানালা থেকে বাইরে তাকিয়ে পাশের বাড়ির বাগানে একটি মরদেহ দেখতে পান। বাগানের দেয়ালে ভরা ছিল রক্ত। তিনি জানান, তার এলাকার একজন ‘প্লেন স্পটার’ আকাশে একটি বিমান থেকে মরদেহটি পড়তে দেখেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঐ ‘প্লেন স্পটার’ ঐ বাড়ির সামনে হাজির হন। তিনি তখন বলেন, কেনিয়ান এয়ারওয়েজের একটি বিমান থেকে ঐ মৃতদেহটি পড়েছে। হিথরো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতি পাঁচ বছরে গড়ে এ রকম একটি ঘটনা ঘটে। খবরে বলা হয়, এত ওপর থেকে পড়লেও মৃতদেহটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়নি। এর প্রধান কারণ এটিকে বরফের দলার মতো দেখাচ্ছিল। পুলিশ বলছে, মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা হবে। তবে তারা এ ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র দেখছেন না। কেনিয়ান এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, তারা তাদের বিমানটি পরীক্ষা করেছেন। কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারের খোপের ভেতর একটি ব্যাগ, পানি এবং কিছু খাবার পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ঐ ব্যক্তি ব্রিটেনে আসার জন্য নাইরোবি বিমানবন্দরে লুকিয়ে ল্যান্ডিং গিয়ারের খোপের মধ্যে উঠেছিল। দূরপাল্লার বিমান আকাশে ওঠার পর ল্যান্ডিং গিয়ারের খোপের ভেতরের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত নিচে নেমে যেতে পারে। সেখানে তখন দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। অবতরণের আগে চাকা খোলার জন্য ল্যান্ডিং গিয়ারের ঢাকনা খোলার পর মৃতদেহটি ছিটকে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।