সদরঘাট টার্মিনাল থেকে নৌকা চলাচল বন্ধ হচ্ছে না

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৯, ২৩:৩৮

একের পর এক দুর্ঘটনায় লোকজন হতাহত হওয়ার পরও সদরঘাট টার্মিনাল থেকে নৌকা চলাচল বন্ধ করা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে কেরানীগঞ্জে আলম মার্কেট ঘাটসহ ১৩ অবৈধ ঘাট মালিকদের যোগসাজশের কারণেই টার্মিনাল থেকে নৌকা চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

গত ৬ মার্চ শাহজালাল নামে এক ব্যক্তি তার পরিবারের ৬ সদস্য নিয়ে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে চাচাতো বোনের বিয়ের  অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য সদরঘাট টার্মিনাল থেকে নৌকাযোগে শরীয়তপুরগামী লঞ্চে উঠতে গেলে এমভি সুরভী-৭ লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবে শাহজালালের পরিবারের ৬ সদস্যই মারা যান। এরা হলেন—শাহ জালালের স্ত্রী মর্জিনা বেগম, মেয়ে মীম ও মাহী এবং শাহজালালের চাচাতো বোনের জামাই দেলোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী মাজেদা ও তাদের একমাত্র ছেলে ৬ মাসের শিশু জুনায়েদ। এ ঘটনার পর বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা ও নৌ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন।  সে সময় প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী সিদ্ধান্ত নেন বুড়িগঙ্গা নদীতে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় দুর্ঘটনা বন্ধ করতে বিআইডব্লিউটিএ আগামী এক মাসের মধ্যেই আলম মার্কেটসহ ১৩টি অবৈধ নৌকাঘাট বন্ধ করে দিয়ে রাজধানীর নবাববাড়ি ঘাট, ওয়াইজঘাট, মিটফোর্ড হাসপাতাল ঘাট, বাদামতলী ঘাট এবং ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নাগর মহল ঘাট, ইস্পাহানী ঘাট, বাবুবাজার ব্রিজ ঘাট ও সিনেমা হল ঘাটে পন্টুন বসিয়ে স্থায়ী ঘাট তৈরি করা হবে এবং নির্দিষ্ট ওই স্থান থেকে নৌকা ও বিআইডব্লিউটিএ’র বোট চলাচল শুরু করবে।  

 সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৮টি ছোটো পন্টুুন তৈরি করে নবাববাড়ি ঘাটে রাখা হলেও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ গত চার মাসেও ওই পন্টুুনগুলো নির্ধারিত ঘাটে স্থাপন করেনি। গত ২১ জুন আবারও সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় এমভি পূবালী-৭ লঞ্চের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাবুল হোসেন ফরাজি নামে এক ব্যক্তির মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে মিসকাত হোসেন ও মেয়ে নুসরাত আক্তারের।

এলাকাবাসীর এখন প্রাণের দাবি বিআইডব্লিউটিএ যেন অচিরেই তৈরি করা পন্টুনগুলো নির্ধারিত ঘাটগুলোতে স্থাপন করে এবং আলম মার্কেট ঘাটসহ সদরঘাট টার্মিনাল এলাকার ১৩টি অবৈধ ঘাট বন্ধ করে দেয়। আর তাহলেই সদরঘাট টার্মিনাল এলাকাসহ বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা  রোধ করা যাবে।