ওয়েস্টার্ন আউটফিটে স্টাইলিশ শীত

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৪, ১৫:১৮

তীব্র শীতে কাঁপছে দেশ। দু-তিনটে জ্যাকেটে যদিও শীত কেটে যায় তবে শীত ফ্যাশনটাও তো এড়ানো যায় না। আজকাল শীতের কাপড় কেনার ক্ষেত্রে বাধা অনেক। কাপড়ের মান, উষ্ণতা, স্টাইল, আরাম এমনকি ফাংশনও জরুরি। শীতে সবচেয়ে পারফেক্ট পোশাক জ্যাকেট। নারী-পুরুষ উভয়ের কাছেই সমান জনপ্রিয় এই জ্যাকেট। তাই নিয়ে লিখেছেন ফাতিন আহমেদ। 

কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করছে জ্যাকেট
আজকাল পশ্চিমা ধাঁচের জ্যাকেটে বাজার সয়লাব। কাজ ও ব্যবহারের দিক থেকে ভাগ করা হয়েছে জ্যাকেট। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাইকারদের জন্য রয়েছে পেডিং জ্যাকেট, উইন্ডব্রেকার জ্যাকেট, রিভার্সিবল জ্যাকেট, বোম্বার জ্যাকেট, কুইলটিন জ্যাকেট, পাফার, ব্লেজারসহ বেশকিছু জ্যাকেট। এ জ্যাকেটগুলো বেশ আরামদায়ক। শীতে সবসময়ই উজ্জ্বল রং বেশি গুরুত্ব পায়। ইচ্ছে করেই গাঢ় রং ব্যবহার করা হয় যাতে যেকোনো পোশাকের সঙ্গে তা মানিয়ে যায়। এমনটিই হয়। আলমারির পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। তবে জ্যাকেটের মেটারিয়ালের ভিত্তিতেও তো আলাদা হয়। দেখে নিন।

লেদারের জ্যাকেট
লেদারের জ্যাকেট ফ্যাশন সচেতনদের প্রিয়। বাইক রাইডারদের কাছে এর আবেদন অন্যরকম। বাইক চালানোর সময় সামনের জিপারটা আটকিয়ে দিলে বাতাস লাগার কোনো আশঙ্কা থাকে না। বর্তমানে বাজারে যেসব লেদার জ্যাকেট পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই পিউ লেদার। পিউ লেদার মানে আর্টিফিশিয়াল লেদার বা ফেক লেদার। সাধারণত এক কালারেরই হয় এ ধরনের জ্যাকেট। সাইডে পকেট, হাতায় সুন্দর মেটালের বোতাম। তাছাড়া জিপারের ওপর সুন্দর প্লেট দিয়ে তাতেও মেটাল বাটন থাকে।

পেডিং জ্যাকেট
পেডিং জ্যাকেট বাইকারদের কথা বিবেচনা করে বানানো হয়। ঠান্ডাতে বাইক চালানোর সময় বাতাস থাকে। এই দুটো মোকাবিলার কথা ভেবেই এ ধরনের জ্যাকেট বানানো হয়। উইন্ডপ্রুফ এই জ্যাকেট শরীর গরম রাখে। এক রঙা জ্যাকেট হওয়ায় অনেকেই এগুলো কিনতেন না আগে। তবে এখন অনেক বদল এসেছে।

উইন্ডব্রেকার জ্যাকেট
পেডিং জ্যাকেটের মতো দেখতে এই জ্যাকেট বাইকারদের উপযুক্ত নয়। উইন্ডব্রেকার জ্যাকেট যেকোনো টি-শার্টের সঙ্গে মানিয়ে যাবে।  বাইকাররা পরতে না পারলেও সাইক্লিস্টদের জন্য দারুণ জ্যাকেট।

গ্যাবার্ডিনের জ্যাকেট
গ্যাবার্ডিনের জ্যাকেটের প্রতি মানুষের কদর একটু কমেছে বৈকি। তবে এখনো কিছু ফ্যাশন হাউজ ডিজাইনে বদল এনে বিক্রি করছে। এক সাইডে বা কলারের কাছে হালকা কাজ করে অনেক গ্যাবার্ডিনের জ্যাকেট রয়েছে। ব্লেজার স্টাইলে বানানো এগুলো ফরমালভাবে খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।

ডেনিম জ্যাকেট
ডেনিমের জ্যাকেটের চাহিদা কখনো পুরোনো হয় না। আজকাল জিন্সের কালারের মধ্যেও এসেছে ভিন্নতা। অনেক ফ্যাশন হাউজ নানান রঙে জ্যাকেট তৈরি করছে এখন। মেয়েরা সিঙ্গেল কুর্তি, শার্ট, টপসের পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজের সঙ্গেও অনায়াসে পরতে পারে এসব জ্যাকেট।

কর্ডের জ্যাকেট
এককালে গতানুগতিক একরঙা কর্ডের কাপড় বেশি দেখা যেত। এখন পরিবর্তন এসেছে। দেখা যাচ্ছে চেক ও স্টাইপ। বাড়তি সৌন্দর্য হিসেবে রয়েছে নানা ধরনের পকেট। ক্যাজুয়াল হোক বা ফরমাল-সবভাবেই এটা পরার উপযোগী।

বোম্বার জ্যাকেট
ওপরে পলিয়েস্টার টাইপের কাপড়। ভেতরে আরামদায়ক মসৃণ ফেব্রিক। এই দুয়ের সমন্বয়ে  বোম্বার জ্যাকেট। জ্যাকেটের প্যাটার্নে এখন কিছু বদলও এসেছে। কিছু জ্যাকেটে পাওয়া যাবে শর্টকাট মোটিভ। কোনোটিতে গলা অবধি জিপার লক, ঠান্ডায় আলাদা মাফলার ব্যবহারের দরকার নেই।

কাপড়ের জ্যাকেট
মেয়েদের কাছে কাপড়ের জ্যাকেটের আবেদন অনেক। কাপড়কে নানাভাবে কোলাজ করে অর্থাত্ নানা কাপড়ের সংমিশ্রণে এসব জ্যাকেট তৈরি করা হচ্ছে। ক্যানভাস কাপড়ে পকেট ও হাতায় পাইপিনের কাজ করে ক্রেতাদের আকর্ষণ করা হচ্ছে। হালকা সুতোর কাজও আছে। শীতপোশাক মনেই হবে না—আবার একেবারে শীত নেই দেখে বলাও যাবে না।

 পোশাক ও ছবি সৌজন্যে নয়ের

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন