নারায়ণগঞ্জে ব্ল্যাকমেইল করে অক্সফোর্ড হাইস্কুলের ছাত্রীদের ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহাম্মদ হুমায়ূন কবিরের আদালতে ওই শিক্ষক তার প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের ছাড়াও বেশ কয়েকজন ছাত্রীর মায়েরাও তার দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে তিনি জানান।
আরিফুল তার জবানবন্দিতে কীভাবে দিনের পর দিন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ধর্ষণ করেছেন তার বিশদ বর্ণনা দেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, কাউকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবার কাউকে ব্ল্যাকমেইল করে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছেন। এর মধ্যে কারো বিয়ে হয়ে গেছে, কেউ অবিবাহিত। তার ধর্ষণের শিকার পাঁচ শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার পর গোপনে তাদের ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করেছেন। ঘটনা যাতে প্রকাশ না পায় এ জন্য আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি সংরক্ষণ করে ছাত্রীদের ভয় দেখাতেন। তার বর্ণনা শুনে আদালত হতবাক হয়ে যায়।
তথ্যমতে, ২০১৪ সালে আরিফের প্রথম শিকার হয় ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রী। তার সঙ্গে পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময়ে আরিফ ওই ছাত্রীকে তার ফ্ল্যাটে ১০ থেকে ১২ বার ডেকে নিয়ে মোট চার/পাঁচ বার ধর্ষণ করেন। দুইবার ওই শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। আরেক ছাত্রী বর্তমানে বিবাহিত। সে আরিফের দ্বিতীয় শিকার। ৯ম শ্রেণিতে পড়াকালীন তার সঙ্গে কৌশলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন আরিফ। এর মধ্যে দুই থেকে তিন বার তাকে ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে সেও অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে আরিফ বাসায় নিয়ে তাকে ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করেন। বিয়ের পরও তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন আরিফ। আরেক শিকার তমা (ছদ্মনাম)’র বর্তমানে বয়স ১৭। তারও ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে । স্কুলে পড়াকালীন আরিফ তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুই বার তাকে ধর্ষণ করেন। ১৬ বছরের আরেক ছাত্রীকে ২০১৭ সাল থেকে বাসায় গিয়ে পড়াতেন তিনি। প্রেমের ফাঁদে ফেলে বহুবার তাকে ধর্ষণ করেছেন। এই ছাত্রীও অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল। ২০১৮ সালে যাত্রাবাড়ীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তার গর্ভপাত করানো হয়। এভাবে একের পর এক ২০ জনের বেশি ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন তিনি।
আরিফুল ইসলাম (৩০) মাদারীপুর সদর থানার শ্রীনদী (শিরখাড়া) এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়ো। সিদ্ধিরগঞ্জের পশ্চিম মিজমিজি মাদ্রাসা রোড এলাকায় বুকস গার্ডেনে ফ্ল্যাট নিয়ে বাস করেন। ২০০৯ সালে অক্সফোর্ড হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি।
