সড়ক দুর্ঘটনায় চার ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু 

জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুর-আগুন, ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৪, ২০:৪১

সিলেটে জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রলীগের চার কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সালাউদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। ছাত্রলীগের ২৫০ থেকে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে আসামিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। 

এদিকে ঐ দুর্ঘটনা এবং বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে তদন্তে নেমেছে সিলেট জেলা প্রশাসক গঠিত তদন্ত কমিটি। রবিবার দুপুরে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সিলেট জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রট ইমরুল হাসানসহ কমিটির সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থল এবং জৈন্তাপুর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তারা হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অনেককেই ঐ ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

মধ্যরাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর

জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় চার ছাত্রলীগ কর্মী নিহতের জেরে শুক্রবার মধ্যরাতে উত্তেজিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্সে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে একটি অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতালের আসবাবপত্র এবং জরুরি বিভাগের বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়। এ সময়ে কর্তব্যরত ডাক্তারকে মারধর করা ছাড়াও হাসপাতালের গ্যারেজে থাকা একটি নতুন জিপ গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর থানার জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। পরবর্তী সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যস্ততায় বিষয়টির সমাধান হয়। এখানে কোনোভাবেই ছাত্রলীগ জড়িত নয়।’

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, ‘শুনেছি তাদের চিকিৎসক নিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তদন্তপূর্বক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের রাংপানি লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি প্রাইভেটকার মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে গেলে ছাত্রলীগের চার কর্মী নেহাল পাল (২৫), জুবায়ের আহসান (২৪), মেহেদী হাসান তমাল (২২) ও আলী হোসেন সুমন (২৩) মারা যান।

হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিন্দা

শনিবার দিবাগত রাতে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রোগীর মৃত্যুর ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা, ভাঙচুর ও অ্যাম্বুলেন্সসহ সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। সরকারি সফরে বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থানরত স্বাস্থ্যমন্ত্রী দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। মন্ত্রীর নির্দেশনায় গতকাল রবিবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎক্ষণাৎ টেলিফোনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সঙ্গে কথা বলেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা প্রদানে তৎপর ও সচেষ্ট থাকার জন্য ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। দেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে টেলিফোনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন চিকিৎসক, নার্সসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতকরণে তার প্রতিশ্রুতি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন।

ইত্তেফাক/এএএম