বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শিক্ষিকাকে ইভটিজিং: শাস্তি দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান, বেত্রাঘাতের ভিডিও ভাইরাল 

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ২২:২২

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে স্কুল অফিসে এনে বেত্রাঘাত করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার চাঁদগাজী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই ছাত্রের বাড়ি উপজেলার মাটিয়াগোদা গ্রামে।

ভিডিওতে দেখা যায়, চাঁদগাজী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল ওই ছাত্রকে শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের কারণ জিজ্ঞেস করেন। পরে তিনি ছাত্রের দুই হাতে বেত্রাঘাত করেন। 

বেত্রাঘাত করতে করতে বলেন, ‘তোমাদের জন্য মেয়েরা স্কুলে আসতে পারে না। তুমি এ সাহস পাও কোথায়? শিক্ষিকা তোমার মায়ের মতো। তুমি যে কাজ করেছ ভবিষ্যতে আর এই কাজ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দাও। সবার সামনে কান ধর। কান ধরে বলো আমি আর জীবনে ইভটিজিং করব না, চারদিকে ঘুরে ঘুরে বল আমি আর জীবনে ইভটিজিং করব না। জীবনে এই কাজ আর করব না। তোমার সঙ্গে আর কে কে আছে এদের নাম বলো।’

এ সময় সোহেল চেয়ারম্যান তাকে প্রতিজ্ঞা করান-ইভটিজিং করা পাপ, খারাপ কর্ম, আমি জীবনে এ কাজ করব না। মেয়েরা সবাই আমার বোন। এদের পড়ালেখার সুযোগ করে দেব। আর কখনো ইভটিজিং করব না। আমি ভালো হয়ে যাব। পরে ছেলেটি তার পা ছুঁয়ে মাফ চান। তখন ওই ছাত্রের মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়।

এ সময় দেখা যায় কয়েকজন লোক এই ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তী সময় তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা জন নানা মন্তব্য করতে থাকে। অনেকেই বলছে তাকে শাসন করার দরকার আছে। আবার কেউ কেউ ভিন্নমতও পোষণ করছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদগাজী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, ‘ইভটিজিংয়ের ঘটনায় ঐ শিক্ষক আমাকে বিচার দিলে আমি প্রাথমিকভাবে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রটিকে শাসন করি। বড় কোন ঘটনা না হওয়ায় আইনের আওতায় নিয়ে আসিনি, আইনের আওতায় নিয়ে আসলে ছেলেদের ভবিষ্যৎ খারাপ হতো এজন্য নিজেই সামান্য শাসন করেছি। এই ছাত্রকে সতর্ক করার মাধ্যমে অনেক বখাটে কিশোর সতর্ক হবে। তারা ইভটিজিংয়ের পথ থেকে ফিরে আসবে।’

ছাগলনাইয়া চাঁদগাজী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাহেরা বেগম বলেন, ‘একজন শিক্ষককে শুক্রবার ইভটিজিংয়ের ঘটনায় স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ছেলেটিকে সামান্য প্রহার করে শাসন করেন এবং ভবিষ্যতে না করার জন্য বলেন।’ তবে ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।

ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, ‘যে কেউ ইচ্ছে করলেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। যদি কেউ অন্যায় করে তাকে প্রশাসনের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

ইত্তেফাক/পিও