হত্যা ও মাদক মামলায় পাঁচ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৩০

জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় চার জন ও মাদক মামলায় এক জনসহ মোট পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মো. আব্বাস উদ্দীন পৃথক এ রায় ঘোষণা করেন। জয়পুরহাট জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল জানান, হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্তরা হচ্ছেন সোহাগ (৩৫), রায়হান (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৩৭) ও হারুনুর রশিদ (৩৬)। এ ছাড়া প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় হারুনুর রশিদ আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ব্যবসায়ীক লেনদেনের অংশ হিসেবে জয়পুরহাট রেল স্টেশন রোডের শীতল কম্পিউটার ব্যবসায়ী সাহাদুল ইসলাম আসামিদের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। বার বার তাগাদা ও দেনদরবার করেও কোনো ফল না হওয়ায় সাহাদুল ইসলাম টাকা আদায় করার জন্য ২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি আসামিদের বাড়ি রতনপুরে যান। সেখান থেকে ফেরার সময় আসামিরা রশি দিয়ে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সাহাদুল। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে এবং পরে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ৭ জানুয়ারি মারা যান। এ ঘটনায় তার মা শাহেরা বেগম বাদী হয়ে চার জনকে আসামি করে পাঁচবিবি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোমিনুল হক ২০১০ সালের ৩০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত এ মামলায় চার জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর সোমবার চার জনকে যাবজ্জীবন ও প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়ে এ রায় ঘোষণা করেন।

অপরদিকে একই আদালত মাদক সংক্রান্ত এক মামলায় সুজন সরদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। রিতা বেগম নামের এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১১৯ বোতল ফেনসিডিলসহ পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর গোপালপুর এলাকা থেকে ২০২০ সালের ১৪ নভেম্বর সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পাঁচবিবি থানায় মাদক মামলা দায়ের করেন র‍্যাব জয়পুরহাট ক্যাম্পের এসআই মানিক চন্দ্র দেবনাথ। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচবিবি থানার এসআই তোফায়েল আহমেদ দুই জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। আদালত তিন জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে সোমবার সুজন সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। উভয় মামলায় সরকারিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সরকারি কৌঁসলি অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্র নাথ মন্ডল পিপি ও অ্যাডভোকেট উদয় সিং এপিপি। আর আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহনুর রহমান শাহীন, রবিউল আলম ফিরোজ, মুনসুর রহমান মন্ডল ও এম রায়হান নবী।

ইত্তেফাক/এমএএম