ডিমের দামে হাঁসের বাচ্চা দরপতনে বিপাকে খামারিরা

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:০০

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শীতের মধ্যে হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে বিপাকে পড়েছেন হারিকেন বাতির হ্যাচারি ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে তীব্র শীতে হাঁস পালনের চাহিদা কমেছে গ্রামেগঞ্জে। ফলে ডিমের দামে হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

সরেজমিনে কাজীপুর, বিরৌহালী ও মহেষ রৌহালী গ্রামের হারিকেন বাতির হ্যাচারিতে দেখা গেছে, বাঁশের মাচার ওপর সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে লাখ লাখ হাঁসের ডিম। ডিমগুলো লেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া রয়েছে। মাচার নিচে হারিকেন বসিয়ে পরিমাণ মতো তাপ দেওয়া হচ্ছে। পরে ডিম ফুটে হাঁসের বাচ্চা বের হচ্ছে। প্রতিটি হ্যাচারিতেই ডিম ও বাচ্চার পরিচর্যার কাজ করছেন পাঁচ-ছয় জন শ্রমিক।

বারুহাস ইউনিয়নের কাজীপুর গ্রামের হারিকেন বাতির হ্যাচারি ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন বলেন, মাচায় ডিম দেওয়ার ২৮-৩০ দিনে হারিকেন বাতির উত্তাপে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এই এক মাসে ডিমের দাম বাদেও আনুসঙ্গিক আরও অনেক খরচ হয়। শীতের আগে এক দিন বয়সের একটি হাঁসের বাচ্চা ২৮-৩০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। কিন্তু শীতের মধ্যে ২০ টাকায় ডিম কিনে হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে ২০ টাকা দামেই ফরিয়াদের কাছে পাইকারি বিক্রি করতে হচ্ছে।

তাড়াশ পৌর এলাকার আসানবাড়ী গ্রামের হাঁসের খামারি বাবু ইসলাম ও লিটন আহম্মেদ বলেন, শীতে হাঁসের বাচ্চার রোগবালাই বেশি হয়। অনেক বাচ্চা মারা যায়। এ সময়ে খামারে বাচ্চা নেওয়া বেশ ঝুঁকির। অধিকাংশ খামার ফাঁকা পড়ে আছে।

জানা গেছে, সব সময় অভাব-অনটন লেগে থাকত যাদের সংসারে, অর্ধাহারে-অনাহারে কেটেছে দিন। যাদের মাটির দেওয়াল ও টিনের চালের ঘর দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না, এখন তাদের অনেকের ইটের পাকা বাড়ি হয়েছে হারিকেন বাতির হ্যাচারি করে। কর্ম সংস্থানের সুযোগ হয়েছে হাজারো লোকজনের। কিন্তু শীত মৌসুমে হাঁসের বাচ্চার দরপতনে বিপাকে পড়েছেন হারিকেন বাতির হ্যাচারি ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. অলিউল ইসলাম বলেন, হাঁসের বাচ্চাগুলো আপাতত হ্যাচারি ব্যবসায়ীদের কাছে রেখে দেওয়া যেতে পারে। শীত কমে গেলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম