নৌকার বিরুদ্ধে নয়, মাঝি পরিবর্তনের জন্য জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে: নিক্সন চৌধুরী

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ২০:১১

ফরিদপুর-৪ আসন থেকে পরপর তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন, ‘আমার এলাকার লোকজন কিন্তু নৌকার বিরুদ্ধে ভোট দেননি। নৌকার মাঝি পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমি যে উন্নয়ন করেছি কাজ করেছি তাতে আমার ওপর তাদের আস্থা আর বিশ্বাস জমেছে। সে আস্থা ও বিশ্বাস থেকেই কিন্তু এলাকার লোকজন আমাকে নির্বাচিত করে।’ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলার টক শো’ ইলেকশন আওয়ার’-এ তিনি এসব কথা বলেন। টক শোটি সঞ্চালনা করেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন।

নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যারা স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছি তাদের কেউ বলতে পারবেন না যে তারা শতভাগ নৌকার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদেরকে দল-মত নির্বশেষে সকলেই ভোট দেয়। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আছি সেজন্য হয়তো ৭০ শতাংশ ভোট আমি আওয়ামী লীগ থেকে পাই। কিন্তু অন্য দলের ভোটও কিন্তু স্বতন্ত্রের মধ্যে আছে। এটা অস্বীকার করলে মানুষকে ভুল বোঝানো হবে।’

স্বতন্ত্র এমপিদের কথা প্রশাসন শোনে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘স্বতন্ত্র বা বিরোধী দল যাই হোক উপজেলার উপদেষ্টা তিনি। প্রশাসন আমার উপদেশ নিয়ে কাজ করবে এটাই নিয়ম। সুতরাং আমাকে মানা কিংবা না মানার কোন বিষয় নয়। আর আমি এত জটিলতার মধ্যে না গিয়ে আমি জনগণের জন্য কাজ করি। ফরিদপুর-৫ কে বিলুপ্ত করে ২০০৮ সালে ফরিদপুর-৪ এর সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিরাট এ এলাকায় প্রায় পৌনে পাঁচ লক্ষ ভোট রয়েছে। আমার আগে যিনি সংসদ সদস্য ছিলেন এখন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচা ছিলেন, তার স্ত্রী ছিলেন, তিনি এমপি ছিলেন। এর আগে ২১ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকার কারণে আমারএলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি। তারপরও মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে গেছেন। ৯৬ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। তার চাচা এমপি ছিলেন। ভোটাররা মনে করেছিলো এবার এলাকার উন্নয়ন হবে। কিন্তু দীর্ঘ ৫ বছর তারাও এলাকায় কোন উন্নয়ন করেননি। রাস্তা নেই, পুল কালভার্ট নেই, বিদ্যুৎ নেই। মানুষের দুর্দশা আর কাটে না। ২০১৪ সাথে আমি যখন এমপি হই তখন এলাকায় মাত্র ৩০ লোকের ঘরে বিদ্যুৎ। একটা ইউনিয়নে কোন ব্রিজ নেই। পাকা রাস্তা তো দুরের কথা ইটের রাস্তাও নেই। এলাকার লোকজন কিন্তু নৌকার বিরুদ্ধে ভোট দেননি। নৌকার মাঝি পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমি যে উন্নয়ন করেছি কাজ করেছি তাতে আমার ওপর তাদের আস্থা আর বিশ্বাস জমেছে। সে আস্থা ও বিশ্বাস থেকেই কিন্তু এলাকার লোকজন আমাকে নির্বাচিত করে ‘

আপনি নৌকার মাঝিকে হারালেও নৌকায় উঠছেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নিক্সন বলেন, ‘মাঝির এখন সে বয়সও নেই, সে অবস্থাও নেই। শুধু মাঝি দিয়ে নির্বাচনে পাস করা যায় না। করোনাকালীন সময়ে দুবছর আমি আমার এলাকায় ছিলাম। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কিন্তু একবারের জন্যও এলাকায় যাননি। জনগণ আমাকে মার্কা পাবার জন্য ভোট দেয়নি, তাদের সেবা করার জন্য ভোট দিয়েছে।’

এমপি হওয়ার স্বপ্ন মাথার ভেতর কীভাবে এসেছে-এমন প্রশ্নের জবাবে নিক্সন বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। রাজনীতির মধ্যেই বড় হয়েছি। আমার নির্বাচনী এলাকার লোকেরা তাদের দুর্দশার কথা আমাকেই বলতো। তারাই বলতো এলাকার লোকজনের দুর্দশা মেটানোর জন্য আপনার মতো লোক আমাদের দরকার। সেভাবেই নির্বাচনে আসা।’

ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের রাজনীতি সম্পর্কে নিক্সন বলেন, ‘যুবলীগের রাজনীতি একসময় খারাপ অবস্থায় গিয়েছিলো। শেখ ফজলে শামস তাপস যুবলীগের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি যুবলীগকে একটি মানবিক সংগঠন হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। এটা উনার বাবার তৈরি করা সংগঠন। সেজন্য এ সংগঠনের প্রতি তার অনেক দরদ।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিক্সন বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যে যে তৃপ্তি সেটি আর কোথাও নেই। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। মানুষের ভালোবাসা আমি পেয়েছি। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছুই নেই।’

প্রবাসীদের বিষয়ে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘তাদের সুযোগ-সুবিধা, দুঃখ কষ্ট নিয়ে আমি সবসময় সোচ্চার। সংসদে প্রতিটি বক্তব্যে আমি তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা তুলে ধরেছি। জনসভায় বলি। এগুলো পূরণ করা কিন্তু সংসদ সদস্যের নয়। এখানে প্রধানমন্ত্রী আছেন, মন্ত্রী আছেন। সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের অফিসাররা আছেন। তারা বিষয়গুলো দেখবেন বলে আশা করি।

ইত্তেফাক/এএএম