অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২৮

গতকাল রবিবার ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। এইদিন প্রথমবারের মতো টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভ করিয়া বাংলাদেশ এক নূতন মাইলফলক স্পর্শ করিল। তাহারা শেষ টেস্টের তিনদিনেই ইনিংস ও ১৮৪ রানে হারাইয়া ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতিয়া সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইট ওয়াশ করিবার কৃতিত্ব অর্জন করিল। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টেও তাহারা আড়াই দিনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬৪ রানের ব্যবধানে হারাইয়া চমক সৃষ্টি করে। এই দলটিকে তাহারা ২০০৯ সালেও হোয়াইট ওয়াশ করিয়াছে তাহাদেরই মাঠে। কিন্তু ইহা বড় কথা নহে। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটি ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল। অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতায় অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার ছিলেন অনুপস্থিত। কিন্তু এইবার শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই তাহারা ইনিংস ব্যবধানে হারাইতে সক্ষম হইল— যাহা অনেক তাত্পর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। যেখানে বাংলাদেশ এই কয়েক বত্সর আগেও অন্য দলগুলির সঙ্গে টেস্ট খেলিয়া ইনিংস ব্যবধানে হারিবার লজ্জা পাইত, সেখানে তাহারা এখন শক্তিশালী দলকে ফলোঅনে ফেলিয়া ইনিংস ব্যবধানে জিতিতেছে, ইহার চাইতে বড় সুখকর খবর ক্রিকেট অনুরাগীদের জন্য আর কী হইতে পারে!

আমরা এমন একটি দলের বিপক্ষে এই জয় লাভ করিলাম যাহারা টেস্ট ক্রিকেটে একটি অভিজাত দল হিসাবে বিবেচিত। আমরা জানি, ১৮৭৭ সালে প্রথম টেস্ট খেলা শুরু হয় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট খেলিতে শুরু করে ১৯২৮ সালের ২৩ জুন। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার পরই তাহারা চতুর্থ দেশ হিসাবে লাভ করে টেস্ট স্ট্যাটাস। ক্রিকেটে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি ভার্সন চালু হইয়া তাহা জনপ্রিয় হইলেও এখনও টেস্টই ক্রিকেটের প্রাণভোমরা। মান-মর্যাদার দিক দিয়া আজও সমাসীন শ্রেষ্ঠত্বের আসনে। এমন একটি দলের বিপক্ষে টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভের মধুর স্বাদ লাভ করায় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়া গেল নিঃসন্দেহে। প্রথম টেস্টে মুমিনুলের সেঞ্চুরি, বোলার নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের অসামান্য নৈপুণ্য এবং দ্বিতীয় টেস্টে মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি, সাকিব ও সাদমানের হাফসেঞ্চুরি ও স্পিনার মিরাজের ঘূর্ণিজালই এই ধরনের বড় কৃতিত্ব অর্জনে অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করিয়াছে। জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরপর তিনটি টেস্ট জিতিয়া বাংলাদেশ তাহার ক্রমোন্নতি ও শক্তিমত্তারই স্বাক্ষর রাখিল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ম্যাচে সাফল্য তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে তাহারা সাম্প্রতিককালে টেস্টেও ভালো করিতেছে যাহা আশাব্যঞ্জক। ২০০০ সালের নভেম্বরে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। এই ১৮ বত্সরে তাহারা ১১২টি টেস্ট খেলিয়া জিতিয়াছে মাত্র ১৩টি, পরাজিত হইয়াছে ৮৩টিতে এবং ১৬টি টেস্টে তাহারা ড্র করিতে সক্ষম হইয়াছে। তবে পরিসংখ্যানে দেখা যাইতেছে, তাহারা এই বত্সর টেস্টে তুলনামূলকভাবে ভালো করিয়াছে। এই বত্সর ৮টি টেস্ট খেলিয়া তাহারা ৩টিতে জয়লাভ করিয়াছে। পরাজিত হইয়াছে ৪টিতে এবং একটি টেস্ট ড্র করিয়াছে। আমরা আশা করি, তাহাদের এই সাফল্য অব্যাহত থাকিবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় টেস্ট সিরিজ জয়লাভ করায় আমরা ক্রিকেট দল, কোচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানাই।