‘ক্যান্ডেল লাইট’-এর দু’জনা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ১৮:৪৩

জনপ্রিয় গীতিকার ও লেখক অনুরূপ আইচের রচনায় এই প্রথম ওয়েব ফিল্মে জুটি হয়ে অভিনয় করলেন চিত্রনায়ক আমিন খান ও চিত্রনায়িকা পপি। আর এটি নির্মাণ করেছেন মো. আতিকুর রহমান লাভলু। এই ওয়েব ফিল্মের গল্প ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এ আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ

বিয়ের ৫ বছর পর সেপারেশন হয়ে যায় সুপারস্টার অভিনেতা সজীব ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌরির। পরবর্তী দশ বছর তারা আলাদা থাকলেও দুই পরিবারের অভিভাবকেরা চায় না তাদের ডিভোর্স হোক। তাই অনেক বছর পরে এই অভিনেতা-অভিনেত্রী দুই পরিবারের কাউকে না জানিয়ে মিউচুয়াল ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে লক্ষ্যে মৌরি এক রাতে সজীবের বাড়িতে আসে। সজীবের মা তখন গ্রামের বাড়ি থাকেন। ডিভোর্সের লক্ষ্যে সজীবও বাসার কাজের লোকদের দূরে রাখে। ডিভোর্স দিতে সজীবের বাড়ি এসে মৌরি লক্ষ করে, সে যেভাবে সাজিয়ে রেখে গিয়েছিল এই বাড়ি, এখনো সেরকম আছে। দেয়ালে এখনো ঝুলানো রয়েছে মৌরির ছবি। ঘরের পর্দাও পাল্টেনি, যা মৌরি পছন্দ করে কিনেছিল। পরে দুইজন সারারাত একে অপরের দোষ ধরে স্মৃতিচারণ করতে করতে কখন যে রাত পার হয়ে যায়, বুঝতে পারে না। দুজনের ঝগড়ার মাঝে এটাও আবিষ্কৃত হয়, মিডিয়াতে কিছু মানুষের ইন্ধনে ভুল বুঝাবুঝির কারণেই তাদের সম্পর্কে আজকের এই ফাটল। তবে মৌরি ভুলে গেলেও সজীব ভুলে না যে, এই দিনেই তাদের বিয়ে হয়েছিল। সজীব প্রতি বছর একাই ম্যারেজ ডে পালন করে। এবারও তাই করার প্ল্যান ছিল, ডিভোর্স হলেও। কিন্তু না। শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স হয়নি। মিল হলো তাদের। একসঙ্গেই তারা ম্যারেজ ডে কেক কেটেছে মোমের আলো জ্বালিয়ে। দুই তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীর দাম্পত্য জীবনের এমন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যান্ডেল লাইট’। এই ওয়েব ফিল্মে অভিনয় প্রসঙ্গে চিত্রনায়িকা পপি বলেন, ‘এর গল্পটা অসাধারণ। এতে অভিনয় করে ভালো লেগেছে।’ চিত্রনায়ক আমিন খান বলেন, ‘একটা ভালো ফিল্ম নির্মাণের জন্য ভালো গল্প প্রয়োজন। এ গল্পটা নিঃসন্দেহে ভালো। তাই এই ওয়েব ফিল্মটি সত্যিই ভালো হয়েছে। আমার বিশ্বাস, দর্শকেরা এর মাধ্যমে সত্যিকারের বিনোদন পাবেন।’ একজন স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে অনুরূপ আইচ বলেন, ‘নামে যেমন চমক আছে, নায়ক-নায়িকাতেও তেমনই চমক থাকছে এই ওয়েব ফিল্মে। শুধু তাই নয়, এই ফিল্মের গল্প, সংলাপ ও কাহিনি বিন্যাসেও চমক রয়েছে।’ তিনি আরো বললেন, ‘এই গল্প আমি একদিন শেয়ার করলাম পরিচালক আতিকুর রহমান লাভলুর সঙ্গে। গল্প পড়েই তিনি স্ক্রিপ্ট চাইলেন। অন্যদিকে স্ক্রিপ্ট রেডি করার আগেই তিনি গল্প শুনিয়ে রাজি করে ফেলেন চিত্রনায়ক আমিন খান ও চিত্রনায়িকা পপিকে। এরপরে আতিক ও আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুু চিত্রপরিচালক শাহীন সুমন এই গল্প শুনে ও স্ক্রিপ্ট পড়ে মুগ্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে যাঁরা কাজ করেন ক্যামেরার অন্তরালে, তাদেরকে আমাদের সাথে দিয়ে দেন এই ওয়েব ফিল্মে সহযোগিতা করতে। বিনাস্বার্থে যা আজকাল অনেকেই করেন না মিডিয়াতে। তাই এই ওয়েব ফিল্ম নির্মাণে আমরা শাহীন সুমন টিমের নাম সবার আগে দেব।’ পরিচালক মো. আতিকুর রহমান লাভলু বলেন, ‘অনুরূপ দা প্রথমে আমার সঙ্গে গল্পটা শেয়ার করেছিলেন। গল্পটা ভালো লেগেছে। তাই ওয়েব ফিল্মটি নির্মাণে সবকিছু গুছিয়ে ফেললাম। গল্পের প্রয়োজনে দুই জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকাকেও জুটি হিসেবে কাস্ট করলাম। সব মিলিয়ে আমি বলব—নির্মাণ অসাধারণ হয়েছে। আশা করছি, দর্শকদের ভালো লাগবে। আগামী ঈদে এটি রিলিজ হবে।’