র কি ব হো সে ন
অনেকের মতো গড়পরতা কাজ করেন না মৌটুসী বিশ্বাস, একটু বাছ-বিচার করেই কাজ করেন। তাঁর দর্শন খুব পরিষ্কার—তিনি মনেপ্রাণে শিল্পী, মানে অভিনয়শিল্পী হতে চান। মানসম্পন্ন কাজের মাধ্যমে শৈল্পিক করে তুলেছেন নিজেকে। তাই কাজের সংখ্যার দিকে তাঁর কোনো মনোযোগ নেই। তিনি কতটা ভালো কাজ করতে পেরেছেন, সেটা নিয়েই ভাবেন মৌটুসী বিশ্বাস। গেল ঈদে তাঁর পর্দা উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এর কারণ কী? এমন প্রশ্ন করতেই মৌটুসী বিশ্বাস বলেন, ‘আসলে এই প্রশ্নটি তাঁদের করা যেতে পারে, যাঁরা নির্মাতা। আমি চাইলেই কি বেশি বেশি কাজ করতে পারব? আমি চাইলেই তা হবে না। আমি বরাবরই মাঝারি ধারায় কাজ করছি। কখনো এমনটি হয়নি যে, এই খুব কাজ করলাম, আবার হাতে কোনো কাজ নেই আমার। তাছাড়া এখন কিছু কিছু শিল্পী নিজেরাই প্রযোজনা করছেন, তাঁরা তাঁদের পছন্দের শিল্পীদের নিয়েই কাজ করেন। মিডিয়াতে এখন কয়েকটি গ্রুপ হয়ে গেছে। আমি আসলে কোনো গ্রুপের মধ্যে পড়ি না। এই যেমন মাঝে আমি মাসুদ সেজানের ‘চলিতেছে সার্কাস’ নামের একটি সিরিয়ালে কাজ করেছি। এই সিরিয়ালের প্রথম থেকেই আমি ছিলাম। এরপর একই নির্মাতার ‘ডুগডুগি’ বা ‘খেলোয়াড়’ ধারাবাহিকেও আমি কাজ করেছি। কিন্তু প্রথম থেকেই আমি এই ধারাবাহিকগুলোয় যুক্ত ছিলাম না। পরে আমি তাতে যুক্ত হয়েছি। মানে একজন পরিচালকের একটি কাজ শেষ হলে আমি তাঁর নতুন কাজে থাকতেও পারি নাও পারি। থাকা না-থাকাটা নির্ভর করে তাঁর ওপর। এই যেমন নির্মাতা আলভী আহমেদ আমার ভালো বন্ধু। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে সে খুব স্বার্থপর। যদি কোনো চরিত্রে আমাকে তিনি প্রয়োজন মনে করেন, তবেই সেখানে আমাকে কাস্ট করেন। আর এই বিষয়গুলোকে আমি পজিটিভলিই দেখি। তবে মিডিয়াতে কাজের ক্ষেত্রে আমি গ্রুপিং বা লবিং করতে ব্যর্থ।’ মৌটুসী বিশ্বাস ক্যারিয়ারের শুরুতে একটু কম কাজ করতেন বলেই নির্মাতাদের কারো কারো মধ্যে এই ধারণা জন্মেছে যে, তাঁকে হয়তো সব কাজে পাওয়া যাবে না, তিনি কাজ কমই করেন ইত্যাদি। কিন্তু মৌটুসী বিশ্বাস শুরুতে নিজের কাজ কম করার ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘আমি তখন কাজ কম করেছি এ কারণে যে, আমি তো কোনো ইনস্টিটিউট থেকে অভিনয় শিখে আসিনি। কাজ করতে করতেই আমাকে সেটা শিখতে হয়েছে। এজন্য একটু সময় নিয়েছি নিজেকে গড়তে। এখন যেমন কোনো কাজের প্রস্তাব পেলে নিজের অভিনীত চরিত্র নিয়ে নাট্যকার বা পরিচালকের সঙ্গে আলাপ করে দারুণ একটি চরিত্র দাঁড় করাতে পারি। কিন্তু শুরুতে আমার সেই কনফিডেন্স ছিল না। ফলে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতাম। আর আমি একটা বিষয় লক্ষ করেছি, যাঁরা ক্যারিয়ারের শুরুতে এসেই প্রচুর কাজ করে, তাঁরা আবার দ্রুতই হারিয়ে যায়।’
মৌটুসী বিশ্বাস নিজেকে ভাগ্যবতী ভাবতেই পারেন। কারণ, ক্যারিয়ারে বারবার বিরতি নিতে হয়েছে, কিন্তু ভক্ত বা নির্মাতামহল তাঁকে ভুলে যাননি। ‘বিষয়টি আমাকে দারুণ আনন্দ দেয়। সত্যিই তো বিয়ে, দেশের বাইরে থাকা ও মা হওয়া এবং সন্তান বড় করতে গিয়ে বারবার কাজে বিরতি নিয়েছি। এত গ্যাপের পরও আমাকে যে সবাই মনে রেখেছেন, এটা সত্যিই পরম পাওয়া। কারণ আমি বিভিন্ন ধাপে বিরতি নেওয়ার সময় কিন্তু জানতাম না ফিরে আসতে পারব কি না, দর্শক-নির্মাতারা আমাকে গ্রহণ করবেন কি না। কিন্তু বিরতিগুলোর পরও তাঁরা আমাকে গ্রহণ করায় আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ,’ বললেন মৌটুসী বিশ্বাস। নাটকের প্রচারমাধ্যম পাল্টে গেছে গত কয়েক বছরে। এখন ইউটিউবে ওয়েব সিরিজের গতি বাড়ছে। তবে এই ধারার কাজে অশ্লীলতার নানা অনুষঙ্গও দেখা যাচ্ছে। এমন প্রসঙ্গ উঠতেই টিভি নাটকের পাখি মৌটুসী বলেন, ‘ওয়েব সিরিজের ডায়ালগসহ বিভিন্ন দিকে অশ্লীলতা টের পাচ্ছি। যাঁরা আমাদের টিভি নাটকের কোয়ালিটি নামিয়েছে, তাঁরাই তো দেখছি এখন ইউটিউব কেন্দ্রিক নির্মাণে নিজেদের জড়িয়েছেন। এছাড়া যাঁরা টিভিতে কাজ করে বেশি সংখ্যক দর্শক ‘রিচ’ করতে পারেননি। তাঁদের অনেকেই ইউটিউব নির্মাণে গিয়ে বেশি দর্শকের দৃষ্টি কেড়েছেন। আমাদের অনেক ওয়ার্ল্ড ক্লাস নির্মাতা আছেন, তাঁদের সঙ্গে ইউটিউবের নির্মাণে আমি কাজ করতে চাই। কিন্তু অশ্লীল ধারার কোনো কাজে আমি নিজেকে যুক্ত করতে চাই না। সত্যি বলতে কী, আমি অশ্লীল কোনো কাজে আর্ট খুঁজে পাই না।’
