সখীপুরে শিক্ষকের ফসলি জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ১৮:১৩

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুল শিক্ষকের কেনা জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জমির বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে জমি বিক্রেতারা জমির ক্রেতা শিক্ষক আবেদ আলী ও তার ছেলে ফরিদ মিয়ার নামে আদালতে মামলা পর্যন্ত ঠুকে দিয়েছেন। 

ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষক আবেদ আলীর বাড়ি উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামে। তিনি মামলার হয়রানি থেকে ও বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে মানুষের দ্বারে দ্বারে এখন ঘুরছেন। 

সরেজমিন বুধবার (৩১ জানুয়ারি) ওই এলাকায় গিয়ে জমির ক্রেতা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হামিদপুর মৌজার বিআরএস খতিয়ানের ৬৫, ৮৬৯ এবং ৬৯৭, ৬৯১, ৬৯৩, ৬৯৮, ৬৯৯, ৭০০ নং দাগে ২১০ শতাংশ আবাদি জমি শিক্ষক আবেদ আলীর বাবা আয়েন উদ্দিন ওরফে শেবু মিয়া প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে ৩৫ বছর আগে ক্রয় করেন। 

শিক্ষক আবেদ আলী জানান, জমিটি প্রায় ৩৫ বছর আগে জেলার কালিহাতী উপজেলার সরিষাআটা গ্রামের আবুবকর সিদ্দিকীর চার ছেলে আবদুর রাজ্জাক, আবু সাঈদ, শাহীন ও আবদুল হাইয়ের কাছ থেকে ক্রয় করে এ পর্যন্ত ভোগ দখল করে আসছেন। সে সময়ে জমির সমুদয় টাকা স্থানীয় উভয়পক্ষের গণ্যমান্যদের সামনে পরিশোধ করা হলেও ৭০ শতাংশ জমির রেজিস্ট্রি দলিল করে দেন তারা। জমির মালিকরা সে সময়ে এও বলেছিলেন আমরা অন্য উপজেলায় বসবাস করি চাষাবাদ করতে আসতে পারিনা; আপনারা পুরো জমিটা নিলে উপকৃত হই। আবদুল হাই নামের মালিকদের একজন জমি বিক্রির টাকা দিয়ে ইতালি চলে যান। তখন সরল বিশ্বাসের সাক্ষীদের সামনে টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর থেকেই জমিটি দলিল করে দেই দিচ্ছি বলে তালবাহানা করে আসছিলেন বিক্রেতারা। এদিকে আমার বাবা করোনাকালে মৃত্যুবরণ করার পর থেকেই জমির মালিকরা দলিলতো দূরের কথা আমার ও আমার ছেলের নামে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দিয়েছে। এখন তারা বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন। জবর দখলের জন্য আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমার শিক্ষক জীবনের সঞ্চয় দিয়ে জমি কিনে এখন প্রতারণার ফাঁদে পড়েছি। জমিতে এবারও তিনিই ইরি ধানের চারা রোপণ করেছেন জানিয়ে বলেন, এলাকার বহু প্রবীণ লোক জীবিত রয়েছেন তারা জমিটির কেনাবেচার বিষয়ে সাক্ষী দিবেন।  

সাবেক ইউপির সদস্য আবুল হোসেন বলেন, জমির মালিক আবুবকর সিদ্দিকীর চার ছেলে শিক্ষক আবেদ আলীর বাবা প্রয়াত শেবু মিয়ার কাছে জমিটি বিক্রি করেছিল। ওই সময় আমাকে সাক্ষী বানিয়েছিল। জমির পুরো টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা নিজে উপস্থিত থেকে জমি বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু জমিটি দলিল করে দিচ্ছে না। এখন তারা উলটো আবারও টাকা চাচ্ছে। এগুলো প্রতারণা ও বেইমানি ছাড়া কিছুই নয়। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, জমিটি কেনা-বেচার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। সে সময়ে কিছু জমি দলিল করে দিলেও বাকিটুকু পরে দেওয়ার কথা ছিল। তবে ৩৫ বছর ধরে আবেদ আলীর দখলেই রয়েছে।
 
ইউপি সদস্য শাহজালাল মিয়া বলেন, জমিটি ৩৫ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছেন শিক্ষক আবেদ আলী। এখন শুনতেছি জমির মালিকরা দলিল করে দেয়নি। বিষয়টি দুঃখজনক। 

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি এবং হামিদপুর গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন বলেন, জমিটি শিক্ষক আবেদ আলীর প্রয়াত বাবা শেবু মিয়া কালিহাতীর আবুবকর সিদ্দিকীর ছেলেদের কাছ থেকে কিনেছিল। বহু বছর ধরে জমিটি চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু কিছু জমি দলিল করে দিলেও পরবর্তীতে বাকিটুকু দেওয়ার কথা থাকলেও মালিক পক্ষ এখনো দলিল করে দেয়নি। বর্তমানে ওই জমিতে বাঁধা প্রয়োগের চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা। এই বিষয়ে আমরা কয়েক দফা বসেছিলাম। জমির মালিকরা কোন সমাধানে আসেনি। 

এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক তাইজুল ইসলাম বলেন, জমির মালিকরা এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছে। এটি নিয়ে তদন্ত চলছে। 

এ বিষয়ে জানতে জমির বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন বলেন, শুনেছি জমিটি শিক্ষক আবেদ আলীর প্রয়াত বাবা শেবু মিয়া ক্রয় করেছিল। কিন্তু দলিল করেনি। বর্তমানে জমি শিক্ষক আবেদ আলীর দখলেই রয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে। 

ইত্তেফাক/পিও