প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা:বিজ্ঞান এবং বাংলা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ২০:১৫

জীব কীভাবে বায়ুর উপর নির্ভরশীল তা ব্যাখ্যা করো

বিজ্ঞান

ঁঁমিরাজুল ইসলাম,  প্রভাষক

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ

প্রশ্ন : উদ্ভিদ ও প্রাণী কীভাবে একে অপরের উপর নির্ভরশীল?

উত্তর : প্রাণী বিভিন্নভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদের ত্যাগ করা অক্সিজেন প্রাণী শ্বাস গ্রহণের সময় ব্যবহার করে। উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ যেমন— কাণ্ড, শাখা ও ফলমূল প্রাণী খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। উদ্ভিদ আবার অনেক প্রাণীর আবাসস্থল। তেমনি, উদ্ভিদ তার খাদ্য তৈরি, বৃদ্ধি, পরাগায়ন ও বীজের বিস্তরণের জন্য প্রাণীর উপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য প্রাণীর ত্যাগ করা কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করে। পুষ্টি উপাদানের জন্যও উদ্ভিদ প্রাণীর উপর নির্ভরশীল।

প্রশ্ন : প্রাণী কীভাবে শক্তির জন্য অন্য জীবের উপর নির্ভরশীল?

উত্তর : প্রাণী শক্তি পায় খাদ্য থেকে। আর খাদ্য হিসেবে প্রাণীরা অন্য জীবকে খায়। যেমন— পোকামাকড় উদ্ভিদ খায়, ব্যাঙ পোকামাকড় খায়, সাপ ব্যাঙ খায়, আবার সাপকে খায় ঈগল। এখানে প্রত্যেক প্রাণী অন্য জীবকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে শক্তি পায়। এভাবে অন্যান্য প্রাণীরাও শক্তির জন্য অন্য জীবের উপর নির্ভরশীল।

প্রশ্ন :  জীব কীভাবে বায়ুর উপর নির্ভরশীল তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ু অপরিহার্য একটি উপাদান। জীবের মধ্যে মানুষসহ সকল প্রাণী শ্বাসকার্যের জন্য বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে। অক্সিজেন ছাড়া প্রাণীরা বাঁচতে পারে না। অন্যদিকে উদ্ভিদ বায়ু থেকে প্রাণীর ত্যাগ করা কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে খাদ্য তৈরি করে বেঁচে থাকে। এভাবেই জীব বেঁচে থাকার জন্য বায়ুর উপর নির্ভরশীল।

৪) উদ্ভিদের জন্য বীজের বিস্তরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : মাতৃউদ্ভিদ থেকে বিভিন্ন স্থানে বীজের ছড়িয়ে পড়াই হলো বীজের বিস্তরণ। বীজের বিস্তার নতুন নতুন উদ্ভিদ আবাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বীজের বিস্তরণ না ঘটলে কোনো উদ্ভিদ শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থানেই জন্মাবে। অন্য কোথাও ঐ উদ্ভিদকে আর পাওয়া যাবে না। অর্থাত্ পৃথিবীর সবস্থানে শুধু একই ধরনের উদ্ভিদ জন্মাবে। ফলে অন্যান্য উদ্ভিদের পুষ্টি ব্যাহত হবে। এছাড়াও বীজের বিস্তরণ না ঘটলে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর খাদ্যের অভাব দেখা দেবে এবং পশু-পাখির আশ্রয়স্থল ধ্বংস হবে। খাদ্য ও আশ্রয়ের অভাবে অনেক প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটবে। ফলে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হবে। সুতরাং কোনো একটি উদ্ভিদের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে নতুন নতুন আবাস গড়ে তুলতে বীজের বিস্তরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশের নাম হলো ধ্বনি

বাংলা

হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক

সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

প্রতিটি ভাষাই শুদ্ধভাবে বোঝতে, পড়তে, বলতে ও লিখতে হলে কিছু নিয়মকানুন জানতে হয়। এ নিয়মকানুনগুলোকে একসাথে বলা হয় ব্যাকরণ। বাংলা ভাষা শেখার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন।

যে নিয়মগুলো জানলে শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষা পড়তে, বলতে ও লিখতে পারা যায়, সেগুলোকে একত্রে বাংলা ব্যাকরণ বলা হয়।

 বই = ব্ + ই

লক্ষ্য করো, ‘বই’ একটি শব্দ। শব্দটিকে ভাগ করলে আমরা ‘ব’ এবং ‘ই’-এ দুটি বর্ণ পাই। আরও ভাগ করলে পাই ব, অ এবং ই-এই তিনটি ধ্বনি। ‘বই’ শব্দটি উচ্চারণের সময় এ ধ্বনিগুলো আমাদের কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসে। এগুলো হচ্ছে ‘বই’ শব্দের ক্ষুদ্রতম একক। অর্থাত্ এরপর শব্দটিকে আর কোনো ুক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না।

শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশের নাম হলো ধ্বনি।

কথা বলার জন্য বা যে কোনো কিছু উচ্চারণের জন্য আমরা আমাদের কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্য নিই। যেমন— কণ্ঠনালি, মুখগহ্বর, দাঁত, ঠোঁট, নাক, জিহ্বা ইত্যাদি। এই সবগুলোকে একসাথে বলা হয় বাগযন্ত্র। বাগযন্ত্রের সাহায্যে নানা রকম ধ্বনি তৈরি হয়। আমাদের উচ্চারিত আওয়াজগুলো বাগযন্ত্রে বাধা না পেলে সৃষ্টি হয় এক রকম ধ্বনি, আর বাধা পেলে সৃষ্টি হয় আরেক রকমের ধ্বনি।

১ ধ্বনি দুই প্রকার— স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

তোমরা ‘আ’ এবং ‘প’ ধ্বনি দুটো উচ্চারণ করো। দেখবে ‘আ’ ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আসা বাতাস বাগযন্ত্রের কোথাও বাধা পাচ্ছে না। আবার লক্ষ্য করো, এই ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় এর 

সাথে অন্য কোনো ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে না। অর্থাত্ এই ধ্বনিটি অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই উচ্চারিত হতে পারে। এ ধরনের ধ্বনিকে বলা হয় স্বরধ্বনি।

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাস বাগযন্ত্রের কোথাও বাঁধা পায় না এবং উচ্চারণের সময় অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্য প্রয়োজন হয় না সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

উদাহরণ : অ, আ, ই, ঈ ইত্যাদি।

আবার লক্ষ্য করো, ‘প’ ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নির্গত বাতাস বাধা পাচ্ছে। বাতাস এসে দুই ঠোঁটে আটকে যাচ্ছে। আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করো, প = প্ + অ। ‘প’ ধ্বনিটি উচ্চারণের সময় আমাদেরকে ‘অ’ ধ্বনিটিও উচ্চারণ করতে হচ্ছে। অর্থাত্ উচ্চারণের ক্ষেত্রে অন্য একটি স্বরধ্বনির সাহায্য লাগছে। এ ধরনের ধ্বনির নাম হচ্ছে ব্যঞ্জনধ্বনি।

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাস কোথাও না কোথাও বাঁধা পায় এবং উচ্চারণে স্বরধ্বনির সাহায্য প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

উদাহরণ : ক, ঘ, চ, প ইত্যাদি।