বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

চোখের সামনে ট্রেনে কাটা পড়ে স্বামী-সন্তানের মৃত্যু, ভুলতে পারছেন না ঊর্মি

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৯:১৩

চোখের সামনে কলিজার টুকরা সন্তান আর স্বামীকে ট্রেনে কাটা পড়তে দেখেন ঊর্মি খাতুন। প্রিয় মানুষ দুটিকে হারিয়ে শোকে পাথর তিনি। বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। একটু পরপর চোখ মেলে তাকিয়ে চিৎকার করছেন। ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন।

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে ঊর্মি খাতুনের স্বামী রতন প্রামাণিক ও চার বছরের শিশু সন্তান মো. সানিকে দাফন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে বাড়ি থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী বাসটি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আনালিয়াবাড়ি এলাকায় বিকল হয়ে পড়ে। সেখানে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান রতন প্রামাণিক (২৮), ছেলে মো. সানি (৪) ও সহযাত্রী শরিফ মন্ডল (৪০)। নিহত শরিফ মন্ডল রাজশাহীর বেলপুকুর থানার মাহিন্দ্রা গ্রামের আলম মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সেখানকার রেলওয়ে পুলিশ শুক্রবার রাতেই লাশ তিনটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেয়। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়। শরিফের পরিবারের পক্ষ থেকে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আর রতন প্রামাণিক ও শিশু সানির লাশ দুটি বড়াইগ্রামে নেওয়া হয়।

রতন প্রামাণিকের চাচাতো ভাই মিনারুল প্রামাণিক ইত্তেফাককে বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা রতন প্রামাণিক কিছুদিন আগে ঢাকার একটা পোশাক কারখানায় চাকরি পান। সেখান থেকেই গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে এসেছিলেন স্ত্রী-ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে যেতে। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে বাসে করে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রতন। পথে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর টাঈাইলের আনালিয়াবাড়ি এলাকায় গিয়ে বাসটি যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পরে। তখন শিশু সন্তানকে নিয়ে রতন রেললাইনের পাশে ছিলেন। হঠাৎ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন ওই লাইনে চলে আসে। শিশুটিকে রক্ষা করতে রতন ও তার সহযাত্রী শরিফ মন্ডল রেললাইনে উঠলে ট্রেনটি তাদের ৩ জনকেই চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রতনের পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

ঊর্মি খাতুন ইত্তেফাককে জানান, স্বামী রতন প্রামাণিক একটি পোশাক কারখানায় চাকরি পেয়েছিলেন। শুক্রবার স্বামী তাদের ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে বাসটি বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় ৪ বছরের ছেলে সানিকে প্রস্রাব করাতে রেললাইনের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বামী রতন প্রামাণিক। বাসের জানালা দিয়ে স্বামী-সন্তানকে দেখছিলেন তিনি। শিশুটি রেললাইনে উঠে পড়লে হঠাৎ লাইনে ট্রেন চলে আসে। এ সময় সন্তানকে বাঁচাতে রতন প্রামাণিক এবং তাদের সহযাত্রী শরিফ মন্ডলও রেললাইনে উঠে পড়েন। মুহূর্তেই ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান তিনজন।

চোখের সামনে স্বামীস-সন্তানসহ ৩ জনকে ট্রেনে কাটা পরার দৃশ্য কিছুতেই ভুলতে পারছেন না ঊর্মি খাতুন। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, চোখের সামনেই বুকের ধনকে (শিশুসন্তান) মরতে দেখেছেন তিনি। সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে স্বামী না ফেরার দেশে। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?

ইত্তেফাক/এবি