কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ জন সদস্যকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও ককটেলসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে ‘ঈগল’ গ্রুপের ১১ জন ও ‘রতন’ গ্রুপের পাঁচ জন। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং কালচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। এদের নেপথ্যের গডফাদারদেরও ছাড় দেওয়া হবে না, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান, নাজমুল হাসান, ওসি কোতোয়ালি ফিরোজ হোসেন, জেলা ডিবির ওসি রাজেস বড়ুয়া, কান্দিরপাড় ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দীনেশ চন্দ্র দাস গুপ্তসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাগণ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে ক্রিকেট খেলা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের ‘ঈগল’ গ্রুপ ও ‘রতন’ গ্রুপের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ছেনি ও ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নগরীর ছোটরা এলাকার সেন্ট মাইকেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পাশে রাস্তার ওপর সমবেত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েক জন গুরুতর আহত হয়। উভয় গ্রুপের সদস্যরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ ঘটনার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার ১৬ জনের মধ্যে ‘রতন’ গ্রুপের পাঁচ সদস্য হচ্ছে শাওন হোসেন, সাইমন আহমেদ, মো. শাওন, বাদল হোসেন ও প্রমিজ সরকার শান্ত এবং ‘ঈগল’ গ্রুপের ১১ সদস্য হচ্ছে মেহেদী হাসান, মো. সাকিব, ফাহিম হোসেন, আরিফ হোসেন, মো. সামবীর, আকিব হোসেন, ফরহাদুজ্জামান পিয়াস, আশরাফুল ইসলাম নিলয়, কাইয়ুম হোসেন, আতিকুর রহমান ও বর্ষণ রায় জয়। তারা কুমিল্লা নগরী দৌলতপুর, সংরাইশ, মোগলটুলী, মুরাদপুর, সুজানগর, কাঁটাবিল ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন রকমের ধারালো ছেনি ও ছুরিসহ ১০টি দেশীয় অস্ত্র ও ৯টি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের ৭০/৮০ জন পলাতক রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পৃথক টিমের অভিযান চলছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক চারটি মামলা হয়েছে, তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান আরো জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ দমনে স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনসহ সচেতন মহলের পাশাপাশি অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের এগিয়ে আসতে হবে এবং পাড়ায়-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
