বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

শিশুসাহিত্যে মরণোত্তর পুরস্কার পেলো খুদে লেখক রাইদাহ গালিবা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২১:৫৩

রাইদাহ গালিবা এক মেধাবী ও সৃজনশীল শিশু ছিল! মাত্র ৬ বছর বয়সেই সে মুখে মুখে গল্প সৃষ্টি করতে পারত। ৭ বছর বয়সে সে লেখে গল্প 'পিটুর জাদু জুতা'।

এভাবে একের পর এক গল্প সৃষ্টি করে সে, আর সেগুলো ছাপা হতে থাকে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘ধানশালিকের দেশ’ ও শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত শিশু পত্রিকাসহ অন্যান্য পত্রিকায়। তার লেখা ‘পিটুর জাদু জুতা’ গল্পটি তার প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ, যা ২০২০-এর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়।

৬ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে রাইদাহ গালিবার লেখা ৬টি গল্প ও ৪টি বই প্রকাশিত হয়। তার প্রকাশিত অন্যান্য জনপ্রিয় গ্রন্থগুলো হলো- ‘এক যে ছিলো মুচি’, ‘ইমা ও দৈত্য’, ‘ভয়ংকর গাছ’ ইত্যাদি।

এই সৃজনশীল খুদে লেখককে স্মরণীয় করে রাখতেই ‘সোনার বাংলা সাহিত্য পরিষদ’ শিশুসাহিত্যে রাইদাহকে গালিবাকে দিয়েছে এসবি এসপি পুরস্কার-২০২৩ (শিশুসাহিত্যে মরণোত্তর) ও সম্মাননা।

গত ২৬ জানুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির সভাপতি ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এই পুরস্কার তুলে দেন রাইদাহ গালিবার মা কানিজ পারিজাতের হাতে। রাইদাহ-এর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মিলনায়তন জুড়ে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। সকলে উঠে দাঁড়িয়ে রাইদাহর সম্মানে ১ মিনিট নীরবতা ও শোক পালন করেন।

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির সেরা ছাত্রী ও ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিল রাইদাহ। ২০২২ সালের নভেম্বর এর ২৬ তারিখ রাইদাহর জ্বর আসে, সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখানো হয়, রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু জ্বর ধরা পড়ে। দেরি না করে শুরুতেই (জ্বরের দেড় দিনে) তাকে একটি নামকরা বেসরকারি হসপিটালে ভর্তিও করানো হয়। তবে রাইদাহ-এর মায়ের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যস্থাপনা, চিকিৎসকের অবহেলা ও সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না দেওয়ায় রাইদাহকে হাসপাতালে ভর্তির আড়াই দিন পরই হারিয়ে যেতে হয় ৩০ নভেম্বর মধ্যরাতে।

ইত্তেফাক/এবি