আইএসপিএবি নির্বাচনে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ২০:৪৫

মাহবুব শরীফ

 

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)র দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ জুলাই। নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে গুলশানের ইমানুয়েল কনভেনশন সেন্টারে। ১৩ সদস্যের নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ভোটে দুইটি প্যানেলে ১৭ জন এবং স্বতন্ত্র তিন জনসহ সাধারণ ক্যাটাগরিতে ২০ জন ছাড়াও সহযোগী সদস্য ক্যাটাগরিতে ১২ জনসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করবে এ নির্বাচনে।

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন সারা দেশের ৪৪১ জন ভোটার। গত ২০১৫ ও ১৭ সালে ভোট দিতে না পারায় এবারের নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে অনেক বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোটারদের কাছে যেতে দেখা গিয়েছে প্রার্থীদের। নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী সকলকেই সবর দেখা গিয়েছে।

কার্য নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ইতোমধ্যে ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে ‘টিম ক্যাটালিস্ট’। ইশতেহারে সুনির্দিষ্টভাবে কমিটি গঠনের ৯০ দিনে বাস্তবায়নযোগ্য ১০টি লক্ষ্য ও পরবর্তী ৬ মাসের ১০টি লক্ষ্য ছাড়াও শেষ ১৫ মাসের জন্য ১৭টি লক্ষ্য ঘোষণা করায় এই কমিটিটি ভোটারদেরকে চমকে দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচনী ইশতেহারগুলোর আকর্ষণীয় দিকগুলো নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য যুক্ত করে নিজস্ব ওয়ালে শেয়ার করতে শুরু করেছে ভোটাররা।

 ‘টিম ক্যাটালিস্ট’ প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইসিসি কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন—ব্র্যাক নেট লি. এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আজহারুল হক চৌধুরী, গ্রামীণ সাইবারনেট লি. এর পরিচালক মো. রুহুল আমিন সরকার,বাংলানেট টেকনোলজিস লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের আল মাহমুদ হোসেন, ডলি আইটি কর্নার-এর প্রোপাইটার মো. মনিরুজ্জামান মনির, জেড এক্স অনলাইন লি.-এর চেয়ারম্যান এস এম জুলফিকার হায়দার, ব্রিস্ক সিস্টেম-এর চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম এবং চিটাগাং মাল্টি চ্যানেল লি.-এর পরিচালক কামরুল আলম শামীম ।

অপরদিকে ভোটহীন নির্বাচনে দীর্ঘদিন নেতৃত্বে থাকা সদস্যদের সমন্বয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৯ সদস্যের ‘টিম ইউনাইটেড’ প্যানেল। এই প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আম্বার আইটির প্রধান নির্বাহী আমিনুল হাকিম। অপর সদস্যরা হলেন— ইমদাদুল হক, রাশেদ আমিন বিদ্যুত্, কামাল হোসেন, মইন উদ্দিন আহমেদ ও খন্দকার মুহাম্মদ আরিফ, জুনাইদ আহমেদ, জাহিন আনোয়ার এবং নাজমুল হক ভুঁইয়া।

জানা গেছে, ২০০২ সালে নিবন্ধিত বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ। কেননা আত্মপ্রকাশের পর ২০০৭ সালে প্যানেলভিত্তিক নির্বাচন হলেও ২০১১ সালের নির্বাচন হয় স্বতন্ত্রভাবে। এরপর ২০১৩ সালে প্যানেল ঘোষণা করা হলেও তা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ থাকেনি। আর ২০১৫ ও ১৭ সালের নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করা হলেও ভোট হয়নি। পূর্বের কমিটিই বহাল থেকেছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটটি ভিন্ন।

আইএসপিএবির আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে টিম ক্যাটালিস্ট-এর প্রধান সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন, ‘ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সংগঠন আইএসপিএবির নির্বাচন দুই বছর অন্তর হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ছয় বছরে কারা, কখন, কীভাবে নির্বাচিত হয়েছে তা অনেকেই জানতে পারেনি। ২০০৮ সাল থেকে কোনো নির্বাচনই হয়নি। বিগত নির্বাচিত কমিটিতে যারা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বগত উদাসীনতার কথা লোকমুখে ছড়িয়ে রয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির মোটামুটি সবাই জানেন যে, তাদের উদাসীনতার কারণে দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আরো দুইটি সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের ডিজিটাল প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরের অংশীদার  আইএসপিএবিও। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগঠনের কার্যক্রমে  কোনো গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে না।  বেসিস, ই-ক্যাব, কোয়াবসহ অনেকগুলো সংগঠন তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে দূরদর্শিতার প্রামাণ দিলেও আইএসপিএবি তা করতে পারেনি।  সারা দেশে এই খাতে ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে যা দেশের অর্থনীতি অবদান রাখছে সরাসরি। এই খাতটি আরো ব্যবসাবান্ধব করা, সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ করাসহ অনেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এ বিষয়গুলো সামনে রেখে টিম ক্যাটালিস্ট নিয়ে এই খাতের পরিবর্তনের অঙ্গীকারসহ আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে আছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। নির্বাচনে তাকে সহযোগিতা করবেন এশিয়ান ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন-অ্যাসোসিও’র সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এইচ কাফি এবং ফিফো টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ হোসেন।

 

 

 

০