বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

পাকিস্তানে নির্বাচন

কারাবন্দী ইমরান খান কী পারবেন সেনাবাহিনীকে মোকাবিলা করতে

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:১৯

পাকিস্তানের নির্বাচনের বাকি মাত্র আর দুদিন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে অনুষ্ঠিত হবে সাধারণ নির্বাচন। তবে নির্বাচনের আগে কারাগারে বন্দী রয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাওয়ার ঘটনা পাকিস্তানে প্রথমবার নয়। অতীতে ঘটেছে। পাকিস্তানের হয়ে ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই অধিনায়ক ইসলামাবাদের স্যাটেলাইট শহর রাওয়ালপিন্ডির একটি কারাগারে আছেন। তার বন্দী নম্বর ৮০৪। এখানেই রয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর।

২৪ কোটি মুসলমানের দেশটির বিরল এক ইতিহাস রয়েছে। পাকিস্তানের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রীই তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। এমনকী দেশটির নির্বাচনগুলোকে সামরিক-গোয়েন্দা জোটের 'নির্বাচন' বলে মনে করা হয় যা দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং কয়েক দশক ধরে সরাসরি শাসন করছে।

২০২২ সালের এপ্রিলে সংসদীয় অনাস্থা ভোটের পর ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরনো হয়। তার স্থালাভিষিক্ত হন শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। সেই জোটটি আবার ২০২৩ সালের আগস্টে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হয়।

৩ নভেম্বর ২০২২ তারিখে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের সময় পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদে গুলিবিদ্ধ হন ইমরান খান। দেশের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার পতন রাজনৈতিক আলোচনায় আধিপত্য বিস্তার করে ও তার বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা চলতে থাকে।

ইমরান খানের সমর্থকরা ২০২৩ সালের মে মাসে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে। এরপরই পিটিআই থেকে বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল নেতা বেরিয়ে যান।

২০২৩ সালের আগস্টে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে হেফাজতে রয়েছেনস ইমরান খান। ২০২২ সালের এপ্রিলে সংসদীয় অনাস্থা ভোটের হেরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় কয়েক ডজন মামলা। ৯ আগস্ট পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ইমরান খানকে পাঁচ বছরের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করে।

ভোটগ্রহণের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতেই পাকিস্তানের আদালত তাকে আরও দুটি সাজা দিয়েছে। অথচ তিনি ইতিমধ্যে তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

এমনকি গ্রেপ্তারের সময় প্রচারণার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করেছেন ইমরান খান। কিন্তু তারপরে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের আদেশে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর নির্বাচনী প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট কেড়ে নেওয়া হয়। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আঁতাতপূর্ণ আদেশ ইমরান খানকে আরও বিাপাকে ফেলে দেয়। এর ফলে যেটুকু অবশিষ্ট ছিল সেটুকুও তার প্রতিকূলে চলে যায়।

এর কারণ হল দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম। পাকিস্তানের যে অঞ্চলে ইমরান খানের সবচেয়ে বেশি সমর্থক রয়েছে বিশেষ করে উপজাতীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বাসিন্দারা মানব উন্নয়ন সূচকের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। তারা ইমরান খানকে ব্যাট প্রতীক দিয়েই চিনতো।

পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে জনপ্রিয় ইমরান খান। তার ঝুলিতে রয়েছে হাজারও প্রশংসিত রেকর্ড। তাই পাকিস্তানের জনগণ ইমরান খানের দলকে ব্যাট প্রতীক দিয়েই চিহ্নিত করে।

পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীরা এখন স্বতন্ত্র হিসেবে তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। দলটি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে যেখানে ভোটাররা তাদের নির্বাচনী এলাকা ও পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীদের প্রতীক খুঁজে পাবেন।

৮ তারিখের নির্বাচনকে সামনে রেখে কারাগার থেকে ইমরান খান তার বিরোধীদের পরাস্ত করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে এখন জল্পনা চলছে।

লেখক- মুকুল শর্মা, দিল্লিভিত্তিক সাংবাদিক ও ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক

ইত্তেফাক/এসএটি