বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ভোটকেন্দ্রে আগুন, স্বীকারোক্তি দিলেন বিএনপি নেতা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২১:১০

খুলনায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন শেখ ইমাম হোসেন নামে এক বিএনপি নেতা। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার দৌলতপুর আমলি আদালতে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

শেখ ইমাম হোসেন দৌলতপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব। তিনি দৌলতপুরের আঞ্জুমান রোডের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।

দৌলতপুর থানার ওসি প্রবীর কুমার বিশ্বাস জানান, পাবলা কারিকরপাড়া ভোট কেন্দ্রে এ অগ্নিকাণ্ডের আসামি শেখ ইমাম হোসেনকে সোমবার রাত ১১টার দিকে নগরীর দৌলতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে দৌলতপুর আমলি আদালতে হাজির করা হয়।

এদিন তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ সময় তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেন। এদের মধ্যে পাবলা দক্ষিণ কারিকর পাড়ার মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম এবং দৌলতপুর খাঁ পাড়ার মৃত সেলিম খানের ছেলে শামীম আজাদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনার দাবি, শেখ ইমাম হোসেন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসার পর খুলনায় নামার সঙ্গে সঙ্গে দৌলতপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আদালতে কোনো জবানবন্দি দেয়নি, বরং পুলিশ জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে শেখ ইমাম কোনোভাবেই জড়িত নয়।

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে খুলনার পাবলা দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয়। এতে ঐ কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত মো. নুরুল ইসলামের শরীরে তাপ অনুভব হলে তিনি চিৎকার দেন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ-আনসার সদস্যরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। আগুনে ৭টি ব্যালট বক্স, নির্বাচনী ফর্ম, নির্বাচনী খরচ ও ভোটিং কর্মকর্তাদের মাঝে বিতরণের জন্য সম্মানী বাবদ নগদ ১ লাখ ৩ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন, সিল, খাম, নির্বাচনী বিভিন্ন সামগ্রী, ভোটার লিস্টসহ অফিস রুমে ব্যবহার্য চেয়ার-টেবিল ও মালামাল এবং উক্ত স্কুলের স্টোর রুমে থাকা পুরাতন কাগজপত্রসহ কিছু আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এ ঘটনায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত মো নুরুল ইসলাম গত ৭ জানুয়ারি দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। 

ইত্তেফাক/এবি