কমিয়ে আনা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও রাজস্বে ঘাটতি ৫৬ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ২১:১৭

অর্থবছর ২০১৮-১৯

নতুন অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪৫%

রিয়াদ হোসেন

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেটের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ২০১৮-১৯ বিশাল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিলেন। অর্থবছর শেষে দেখা গেল, লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও নেই রাজস্ব আদায়। গত অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল ২ লাখ  ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। আদায়ে গতি কম হওয়ায় অর্থবছরের শেষ দিকে এসে তা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকায় আনা হয়। কিন্তু অর্থবছর শেষে এনবিআরের প্রাথমিক হিসেবে দেখা গেছে, রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। কমিয়ে আনা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। আর প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তা ৭২ হাজার কোটি টাকা কম।

সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার রাজস্ব প্রবৃদ্ধিও কম। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। সেই হিসেবে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ। যদিও এর আগের অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বেড়েছিল ২০ শতাংশের ওপরে। কয়েক বছরে এবারই রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে।

বিশাল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াও নির্বাচনের আগে সরকার কয়েকটি খাতে করছাড় দিয়েছে। এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ছাড় দেওয়ায় এ খাত থেকে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব কমতে পারে বলে আভাস দিয়েছিল এনবিআর। অন্যদিকে ইন্টারনেট সেবায় ভ্যাট ছাড় এবং কিছু খাতে কর ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই সুবিধা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সব ধরনের রপ্তানির ওপর উেস কর ১ শতাংশ থেকে দুই ধাপে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনায়ও রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তা সত্ত্বেও রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি এত কম হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ের তিনটি খাতের মধ্যে আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক। অন্যদিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আদায়ে। ভ্যাট আদায়েও কাঙ্ক্ষিত গতি নেই। শুল্ক ও ভ্যাট আদায় অস্বাভাবিক কম হওয়ায় অস্বস্তি রয়েছে এনবিআরে। স্বল্প শুল্কের ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের পণ্য বন্দরে খালাস হয়ে যাচ্ছে কি না—এমন আলোচনা সম্প্রতি বেশ জোরালো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ প্রায়ই অভিযানে মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য আটক করে। তাতে দেখা যায়, বন্দর থেকে ঐসব পণ্য স্বল্প শুল্কের হিসেবে খালাস হলেও বাস্তবে সেসব পণ্যে শুল্কের পরিমাণ ছিল কয়েক গুণ বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে শুরু হওয়া অর্থবছরে এনবিআরকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাত্ লক্ষ্য অর্জনে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের চেয়ে ১ লাখ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় আদায় করতে হবে। এটি গত অর্থবছরে আদায়ের চাইতে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন সম্ভব হবে না। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় এত বেশি পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে না। অতীতের মতো চলতি অর্থবছরেও শেষের দিকে এসে এই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনার প্রয়োজন হতে পারে।