বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

বেগুন মার্কায় ভোট চাইছেন ইমরানের সমর্থক

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:৪৮

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কারাবন্দী ইমরান খানের দল পাকিস্তানের নির্বাচনে প্রবল চাপের মুখে। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন নওয়াজ শরিফ। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংগঠন অনিয়মের অভিযোগ করছে।

নির্বাচনি প্রচারে হাতে আস্ত বেগুন নিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন ইসলামাবাদের নির্দলীয় প্রার্থী আমির মুগল। আসলে তিনি কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থক। তার তেহরিক-ই-ইনসাফ দল বৃহস্পতিবারের সাধারণ নির্বাচনে নিজস্ব ক্রিকেট ব্যাট মার্কায় ভোট চাইতে পারছে না। ফলে দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা বাধ্য হয়ে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে আসরে নেমেছেন।

নির্বাচন কমিশনই তাদের শাকসবজির মতো বিভিন্ন চিহ্ন বরাদ্দ করে দিয়েছে। কিছু প্রার্থী সেগুলিকে ‘অপমানজনক' হিসেবে বর্ণনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে ‘নিরপেক্ষ' প্রশাসনও তাদের ঠিকমতো নির্বাচনি প্রচার করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংগঠনও ইমরান খানের দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের ‘হয়রানির প্যাটার্ন' সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে। সংগঠনের শীর্ষ কর্মকর্তা পাকিস্তানে মুক্ত ও অবাধ নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ অবশ্য যাবতীয় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ করে নির্বাচনের ওপর নজর রাখার সুযোগ করে দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো মানবাধিকার সংগঠন পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো রকম বাধা সৃষ্টি না করার ডাক দিয়েছে।

কিন্তু নির্বাচনের আগেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক কারাদণ্ডের রায় এবং তার দলের কার্যকলাপের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বাধা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। অতীতের মতোই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ইশারায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এককালে নওয়াজ শরিফকে কোণঠাসা করতে ইমরান খানকে মদদ দেওয়ার পর সেনা কর্মকর্তারা নাকি এবার সেই নওয়াজকেই চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। পিপলস পার্টির বিলাওয়াল ভুট্টোও বেশ কিছু ভোট আদায় করতে পারেন। জনমত সমীক্ষা ও একাধিক পূর্বাভাস অনুযায়ী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে জোট সরকার গড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

তবে অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, সামরিক বাহিনীর সম্মতি ছাড়া আগামী সরকারের পক্ষে দেশের একাধিক চ্যালেঞ্জ সামলে কার্যকাল সম্পূর্ণ করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। উল্লেখ্য, নওয়াজ শরিফও কোনো মেয়াদেই তার কার্যকাল শেষ করতে পারেননি।

ইত্তেফাক/এসএটি