কেন ম্লান হইবে প্রধানমন্ত্রীর কষ্টার্জিত অর্জন?

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ২১:৪৩

একটি গিরগিটি গাছের পাতার সহিত নিজের শরীরের রং মিশাইয়া চুপটি করিয়া বসিয়া থাকে শিকারের জন্য। পাতার পরিবর্তে গাছের ডালে বসিলে সেইখানেও সেই গিরগিটি ঐ ডালটির ধূসর রং ধারণ করিয়া নেয়। ইহা এক ভিন্ন ক্ষমতা। এইভাবে কোনো এক সময় শিকার যখন না বুঝিয়া গিরগিটিটির কাছে আসে, অমনি লম্বা জিভ বাহির করিয়া শিকারকে গ্রাস করে সে। অ্যানিমেল প্লানেট কিংবা ডিসকভারি চ্যানেলে পৃথিবীর প্রাণিকুলের এমন বিচিত্র কাণ্ডকারখানা দেখিতে পাওয়া যায় হরহামেশা। মানুষও তো প্রকৃতির একটি অংশ। সুতরাং প্রকৃতির মধ্যে নিরন্তর ঘটিয়া চলা নানা ধরনের কেমোফ্লেজের ফিউশন দেখিতে পাওয়া যায় মানবসমাজেও।

সম্প্রতি হাইকোর্ট বলিয়াছেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্জন ম্লান হইতেছে কিছু কিছু দেশবিরোধী মানুষের কারণে। হাইকোর্ট বলিয়াছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ হইতে ২০০১ সাল এবং ২০০৯ সাল হইতে আজ অবধি পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি রক্ষায় একের পর এক আইন প্রণয়ন, সংবিধান সংশোধন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়া সারা বিশ্বে অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হইয়াছেন। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ ঘোষণা করা হইয়াছে। কিন্তু তাহা সত্ত্বেও তাঁহার সব কর্মপ্রচেষ্টা ম্লান হইয়া যাইতেছে দেশবিরোধী গুটিকয়েক মানুষের জন্য। তুরাগ নদ রক্ষায় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়।

আমরা ইতঃপূর্বে দেখিয়াছি যে, সরকার নামক বিপুল-বিরাট বটবৃক্ষের ছায়াতলে আশ্রয় লইতে চাহে দেশবিরোধী সুযোগসন্ধানীরাও। গিরগিটির মতো তাহারা রং বদলাইয়া ‘সোনার তরি’ উপহার দিয়া ক্ষমতার ছায়ায় ঢুকিয়া পড়ে। এইভাবে রাজাকার, আলবদর, আলশামস হইতে শুরু করিয়া অন্য দলের অপরাধীদের স্রোতে মিশিয়া যায় ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে। অথচ, ইহা বুঝিতে বিশেষ জ্ঞানী হইবার প্রয়োজন নাই যে, ইহারা কখনই আওয়ামী লীগের ছিল না। কিন্তু ইহারাই রং বদলাইয়া বটবৃক্ষের ছায়ায় আশ্রয় লইয়া বড়ো করিয়া জিভ বাহির করিয়া বসিয়া থাকে শিকার ধরিবার জন্য। স্পষ্টতই যাহারা কখনই আওয়ামী মনোভাবাপন্ন ছিল না কোনোকালেই, তাহারাই করিয়া চলিতেছে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম। ক্ষমতার বলয়ে ঢুকিবার সুযোগ পাইয়া ইহারা এমনকি উপজেলা পর্যায়েও থানা কিংবা প্রশাসনকে নিজের ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত করিতে চাহে। এমনকি প্রশাসনের কর্মকর্তাকে থাপ্পড় মারিবার মতো ঔদ্ধত্য দেখাইতেও ইহাদের হাত কাঁপে না।

জগতে কোনো কিছুই একহাতে নিপুণভাবে পরিচালনা করা যায় না। ইহার জন্য প্রয়োজন বিশ্বস্ত করিত্কর্মা ব্যক্তিবর্গ। কাহারা বসন্তের কোকিল আর কাহারা পরীক্ষিত বন্ধু—সেই ব্যাপারে সচেতন না হইলে অনেক বড়ো বড়ো অর্জনও ম্লান হইয়া যাইতে পারে। সুতরাং কে আপন আর কে পর—ইহা বুঝিয়াও যদি অন্ধ হইয়া থাকা হয়, তাহা হইলে এত কষ্ট-ত্যাগ-তিতিক্ষা আর অহর্নিশ পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশ গড়িবার যাবতীয় অপূর্ব অর্জনের বিপরীতে ঝকঝকে নীল আকাশখানি ঘষা কাচের মতো ধূসর হইয়া যাইতে পারে।