নিরাপত্তার দিক হইতে বিমানবন্দর একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এই সকল হামলার অন্যতম লক্ষ্য বিমান ও বিমানবন্দর হওয়ায় এই স্পর্শকাতরতা আরো বাড়িয়াছে। সারা বিশ্ব জুড়িয়া বিমানবন্দরে কার্যকর করা হইতেছে অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের দেশের বিমানবন্দরগুলো বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলাইয়া এখনো আধুনিক হইয়া উঠিতে পারে নাই। ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা লইয়া প্রায়শই বিপত্তি ঘটিতে দেখা যায়। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্ত্র ও গুলি নিয়া যাত্রীদের প্রবেশের ঘটনা ঘটিতেছে। সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব সাত রাউন্ড গুলি ও ম্যাগাজিনসহ আটক হইয়াছেন। বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় তাঁহার ব্যাগে সাতটি গুলির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তাঁর বৈধ অস্ত্র থাকিবার কথা স্বীকার করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই রকম ঘটনা আরো ঘটিয়াছে। ইহার পূর্বে খেলনা পিস্তল নিয়া পলাশ নামের এক যাত্রী বিমানে উঠিয়া যাত্রীদের জিম্মি করিয়া বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করিলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়া প্রশ্ন উঠে। পিস্তল খেলনা হউক আর বৈধ হউক, বিমানবন্দরের একাধিক স্ক্যানার মেশিনের ফাঁক গলিয়া তাহা কীভাবে বিমান পর্যন্ত পৌঁছাইল—তাহাই হইল প্রশ্ন। ইহার পরবর্তী সময়ে চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়া একই প্রকার ঘটনা ঘটিয়াছিল। তিনি তাঁহার বৈধ পিস্তল নিয়া ভুলে একাধিক স্ক্যানার পার হইয়াছিলেন। স্ক্যানার তাঁহার পিস্তল ধরিতে পারে নাই। একই রকম ঘটনা ঘটে আওয়ামী এক নেতার সঙ্গে; তিনিও ভুলে ঘোষণা ছাড়া অস্ত্র নিয়া বিমানবন্দরে ধরা পড়েন। তাঁহাকে গ্রেফতার করা হয়। দেখা যাইতেছে একই ঘটনা বারবার ঘটিতেছে। কেন ঘটিতেছে তাহা যদি ভালো করিয়া যাচাই করা হয় তা হইলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হইতে পারে। কিন্তু কেন সেই উদ্যোগ লওয়া হইতেছে না, তাহা আমাদের বোধগম্য নহে। শুধু অস্ত্র নহে, যে কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করিতে হইবে; তাহা না হইলে দেশের বড়ো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রহিয়াছে। বিশেষ করিয়া, যদি পশ্চিমা দেশগুলো নিরাপত্তার অজুহাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিত্যাগ করে, তাহা হইলে দেশ সমূহ সংকটে পড়িবে। ইহার পূর্বে নিরাপত্তা দুর্বলতার অজুহাতে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকা হইতে যুক্তরাজ্যে সরাসরি মালবাহী (কার্গো) উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য। নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতি না হইলে সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইটও বন্ধ করিয়া দেওয়ার কথা বলা হয় দেশটির পক্ষ হইতে। এরপর শাহজালালের নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের পরামর্শে ২০১৬ সালের মার্চে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘রেডলাইন সিকিউরিটি’র সঙ্গে চুক্তি করে বেবিচক। কিন্তু তাহার পরেও নিরাপত্তার নানা ফাঁকফোঁকর ও অব্যবস্থাপনা এখনো দৃশ্যমান।
আমরা আশা করি, সরকার সব ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করিবে। কেননা ইহার সহিত দেশের অর্থনীতি ও ভাবমূর্তি সরাসরি জড়িত।
