দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা হিসেবে চিহ্নিত হলেও পটুয়াখালী জেলার দুই উপজেলা গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে নেই আবহাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত নির্ণয় করা তো দূরের কথা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, বাতাসের গতিবেগ নির্ণয়েরও নেই কোনো ব্যবস্থা। এ কারণেই বন্যা হলেই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধারণার বাইরে চলে যায়। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত পটুয়াখালী জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী অন্যতম। গলাচিপা উপজেলায় একটি পৌরসভা ও বারোটি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে চার লাখ লোকের বসবাস। আর রাঙ্গাবালী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে লোকসংখ্যা পৌনে দুই লাখ। প্রতিবছর কমপক্ষে দু-একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় এসব এলাকায় আঘাত হানে। বিগত দিনগুলোতে ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন, রোয়ানু, মোরা ও সর্বশেষ ফণী আঘাত হানে উপকূলবর্তী এসব এলাকায়। এতে ব্যাপক প্রাণহানিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়। কিন্তু এখানে কোনো আবহাওয়া অফিস না থাকায় ঢাকা থেকে আবহাওয়ার বার্তা সংগ্রহ করে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, ঢাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে যে সময় লাগে ততক্ষণে পরিস্থিতি অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। কোনো কোনো সময় সাধারণ মানুষ আবহাওয়ার যথাযথ বার্তাও পায় না। ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও দ্বিগুণ হয়। বিশেষ করে সাগর ও নদীতে মাছ ধরা ট্রলারগুলো সঠিক তথ্য পৌঁছানো যায় না বলে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪০ জন জেলে ট্রলার ডুবে মারা যায়। তাই ঘূর্ণিঝড়প্রবণ অঞ্চলগুলোতে অতি দ্রুত আবহাওয়া অফিস স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
নিয়ামুর রশিদ শিহাব
গলাচিপা, পটুয়াখালী
